চীনে ধাক্কা খেয়ে ভারতে আসছে ব্রিটিশ অভিজাত স্কুলগুলো
অনলাইন ডেস্ক: চীনের বাজারে ব্যবসা সম্প্রসারণের পথ রুদ্ধ হওয়া এবং যুক্তরাজ্যে অভ্যন্তরীণভাবে বেসরকারি স্কুলের ফিতে উচ্চ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আরোপের পর বিশ্বজুড়ে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে নতুন কৌশল অবলম্বন করছে ব্রিটেনের ঐতিহ্যবাহী অভিজাত বেসরকারি স্কুলগুলো। বিশাল জনসংখ্যা এবং দ্রুত বিকাশমান কোটিপতি ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির উপস্থিতি দেখে এখন তাদের মূল মনোযোগের কেন্দ্রে উঠে এসেছে ভারত।
ভারতের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় পাঞ্জাবের চণ্ডীগড় শহরের কাছে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ইংল্যান্ডের ৪৭৩ বছরের পুরোনো বেডফোর্ড স্কুলের প্রথম আন্তর্জাতিক ছাত্রী ক্যাম্পাস— ‘বেডফোর্ড স্কুল, মোহালি’। এটি ছাড়াও ভারতের প্রযুক্তি শহর বেঙ্গালুরুতে ২০২৩ সাল থেকে কার্যক্রম চালাচ্ছে বিখ্যাত ‘হ্যারো স্কুল’ (যেখানে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু পড়াশোনা করেছিলেন)। এছাড়া ভোপালে শ্রুজবেরি স্কুল এবং পুনেতে চালু হয়েছে ওয়েলিংটন কলেজ। আগামীতে মিলফিল্ড ও কুইন এলিজাবেথ স্কুলের মতো শীর্ষ ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানগুলোও ভারতে শাখা চালুর পরিকল্পনা করছে। এসব স্কুলে কেমব্রিজ শিক্ষাক্রমের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সার্বিক চরিত্র গঠন, আত্মবিশ্বাস তৈরি এবং কোনো বিশেষ ভিআইপি সুবিধা না দিয়ে সবাইকে সমান সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে।
গত এক দশকে ব্রিটিশ স্কুলগুলোর বিদেশের মোট শাখা ক্যাম্পাসের প্রায় অর্ধেকই খোলা হয়েছিল চীন ও হংকংয়ে। কিন্তু ২০২৪ সালে কার্যকর হওয়া চীনের নতুন শিক্ষানীতিতে বাধ্যতামূলক ‘দেশপ্রেমমূলক শিক্ষা’ অন্তর্ভুক্ত করা এবং কঠোর সরকারি নজরদারির কারণে একাধিক শাখা খোলার প্রকল্প বাতিল হয়। অপরদিকে, যুক্তরাজ্যে ২০২৪ সালের শরৎকালীন বাজেটে ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে বেসরকারি স্কুলের ফি-র ওপর ২০ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করায় ব্রিটিশ মূল ক্যাম্পাসগুলোর ওপর চরম আর্থিক চাপ তৈরি হয়। ফলে অস্তিত্ব ও প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে ভারতে শাখা খোলা তাদের জন্য একপ্রকার বাধ্যবাধকতায় পরিণত হয়েছে।
বিবিসি ও পিইপিএফের গবেষণা অনুযায়ী, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও ভারতের বাজার চীনা বাজারের মতো সহজে মুনাফা এনে দেবে না। প্রথমত, চীনে ইংরেজি শিক্ষার সুযোগ কম থাকায় সেখানে চাহিদা বিপুল ছিল, অথচ ভারতে দীর্ঘদিন ধরেই ভালো ইংরেজি মাধ্যমের স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী স্কুল বিদ্যমান। দ্বিতীয়ত, ভারতীয় গ্রাহকরা তুলনামূলকভাবে দাম ও ব্যয়ের বিষয়ে অনেক বেশি সংবেদনশীল। যেখানে যুক্তরাজ্য বা চীনে বাৎসরিক ফি ১৫ হাজার পাউন্ডের বেশি নেওয়া হয়, সেখানে ভারতীয় পরিবারের সামর্থ্যের কথা চিন্তা করে মোহালির বেডফোর্ড স্কুলকে তাদের ফি প্রায় অর্ধেক নির্ধারণ করতে হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় অংশীদারদের লভ্যাংশের অনুপাতও ভারতে বেশ কম।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারতে ব্রিটিশ পাবলিক স্কুলের ব্যবসা দীর্ঘমেয়াদে ধীর ও স্থিতিশীল হলেও চীনের বাজারে যে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখ তারা দেখেছে, খুব দ্রুত তা ভারতের মাটি থেকে উদ্ধার করা চ্যালেঞ্জিং হবে।
সকালবেলা / নুসরাত