জাইমা রহমানের জন্মদিনে বগুড়ায় ২ হাজার মানুষকে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা

প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৫ অপরাহ্ণ
জাইমা রহমানের জন্মদিনে বগুড়ায় ২ হাজার মানুষকে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা
বগুড়ার শিবগঞ্জে জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত বিনামূল্যে চক্ষু সেবা

ওয়াফিক শিপলু, বগুড়া প্রতিনিধি: তারেক বাবার বেটি জাইমাক যেন আল্লাহ এতদিন বাঁচে রাখে বাবা! হামরা গরিব মানুষ, ট্যাকার অভাবে চোখ কাটতে পাচ্চিনে। জাইমার অছিলায় আল্লাহ হামার চোখটা ভালো করে দিচ্ছে। আল্লাহ জাইমাক, তারেক বাবাক আর মীর শাহে আলমক ভালো রাখুক।’

চোখের কোণে আনন্দের জল মুছে কথাগুলো বলতে বলতে আবেগে কণ্ঠ ধরে আসছিল বগুড়ার মোকামতলা উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের সরদারপাড়া গ্রামের প্রবীণ নারী লাভলী বেওয়ার। দীর্ঘদিন ধরে চোখে দেখতে সমস্যায় ভুগছিলেন, কিন্তু অর্থাভাবে কোনো ভালো হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর বিন্দুমাত্র সামর্থ্য ছিল না তাঁর। অবশেষে জন্মদিনের বিশেষ উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষু সেবা ও ছানি অপারেশনের সুযোগ পেয়ে নতুন করে নতুন পৃথিবীর স্বপ্ন দেখছেন তিনি। লাভলী বেওয়ার এই অশ্রুসিক্ত বাক্যে মিশে ছিল অকৃত্রিম স্বস্তি, গভীর কৃতজ্ঞতা এবং অগণিত দোয়া।

শুধু লাভলী বেওয়াই নন, একইভাবে বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তাঁর সুযোগ্য কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপির জন্য পরম করুণাময় আল্লাহর দরবারে হাত তুলে দোয়া করেছেন সৈয়দপুর গ্রামের বৃদ্ধা সাহেদা এবং নয়াপাড়া গ্রামের প্রবীণ কৃষক কছিমদ্দিনসহ অন্তত দুই হাজার হতদরিদ্র ও অসহায় মানুষ। অর্থের অভাবে দীর্ঘদিন যাদের ছানি চিকিৎসা কিংবা চশমা নেওয়া সম্ভব হয়নি, এই মহতী উদ্যোগ তাঁদের জীবনে নতুন ভোরের আলো জ্বালিয়েছে।

ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের শুভ জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী ঘোষিত সামাজিক কর্মসূচির প্রথম দিনে আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) বগুড়ার মোকামতলা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সৈয়দপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দিনব্যাপী এই বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা ও ছানি অপারেশন বা বাছাই কার্যক্রম পরিচালিত হয়। 'মীর শাহে আলম ফাউন্ডেশন'-এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চক্ষু শিবিরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি।

সকাল ১১টা থেকে শুরু হওয়া বিশেষ এই স্বাস্থ্য কার্যক্রমে বিকেল পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার নারী, পুরুষ ও বৃদ্ধ নিখরচায় মানসম্মত চক্ষু চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। চিকিৎসকদের নিবিড় স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে তাঁদের মধ্যে প্রায় ৬০০ জন ছানিপড়া রোগীকে বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের (ছানি অপারেশন) জন্য চূড়ান্ত নির্বাচন করা হয়। আগামী কাল রবিবার শিবগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মোকামতলা ও শিবগঞ্জ উপজেলার ৬ শতাধিক মেধাবী ও প্রতিভাবান ছাত্রীর হাতে বিনামূল্যে বাইসাইকেল উপহার তুলে দেবেন প্রতিমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সর্বদাই সাধারণ ও খেটে খাওয়া মানুষের দল। জনগণের ভোটের সরকার গঠিত হওয়ার মাত্র সাত মাসের মাথায় বগুড়া-২ আসনসহ সমগ্র বাংলাদেশে কোনো প্রকার ভেদাভেদ ছাড়াই সমভাবে দ্রুতমুখী উন্নয়ন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। কারণ ধানের শীষের মূল লক্ষ্যই হলো মানুষের সার্বিক কল্যাণ সাধন করা।”

রাজনৈতিক বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর কড়া সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “জামায়াত ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে জনগণকে বেহেশতের লোভ দেখিয়ে শুধুই ভোট নিয়েছে, কিন্তু ভোটের উৎসব শেষ হলে দুর্দিনের সময়ে তাদের আর দুঃখী মানুষের পাশে খুঁজে পাওয়া যায় না। তারা এমন এক নীতি অনুসরণ করে, যেখানে সাধারণ মানুষকে সাহায্য করা তো দূরের কথা, কোনো একজন ভিক্ষুককেও সাহায্য করে না। ভুল করে যারা তাদের বিশ্বাস করেছিলেন, তারা এখন আফসোস করছেন। সেই ভুল শুধরে আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীদের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।”

তিনি আরও সংযোজন করেন, “নির্বাচনের প্রাক্কালে দুর্গাপূজা বা অন্যান্য ধর্মীয় উৎসব নিয়ে বিরোধীরা নানা অপপ্রচার চালিয়েছিল, অথচ এখন দুর্দিনে সংখ্যালঘু বা হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে কাউকেই দেখা যাচ্ছে না। তারা ধর্মকে রাজনীতি ও ক্ষমতার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করে, অথচ দেশের হাজার হাজার মসজিদ-মাদ্রাসার সম্মানিত ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের কল্যাণে তাঁদের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই। আপনাদের সন্তান তারেক রহমান ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সম্মানিত সম্মাননা ও সরকারি ভাতার যুগান্তকারী সুব্যবস্থা করেছেন।”

প্রতিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, “আমরা কোনো 'আমি-ডামি' বা পেছনের দরজার রাতের ভোট করে ক্ষমতায় থাকতে চাই না। আগামী পাঁচ বছর নিরপেক্ষ ও দৃশ্যমান উন্নয়ন দিয়ে জনগণের মনে স্থান করে নিয়ে তাদের প্রত্যক্ষ ভোটাধিকারের মাধ্যমেই পুনরায় ক্ষমতায় আসব ইনশাআল্লাহ। আগামী চার বছরের ভেতরে দেশের চার কোটি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারকে বিশেষ 'ফ্যামিলি কার্ড'-এর আওতায় আনা হবে।”

অনুষ্ঠান শেষে সুবিধাবঞ্চিত স্থানীয়দের মুখে যে তৃপ্তির হাসি দেখা গেছে, তা যেন আবারও স্মরণ করিয়ে দেয়—অসহায় ও প্রবীণ মানুষের কাছে আবার দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়া কেবল মাত্র একটি চিকিৎসা নয়, বরং নতুন করে বেঁচে থাকার পূর্ণ এক জীবনের আলো।