দেশে ১৫ মার্চ থেকে হাম ও হাম উপসর্গে মৃত্যু ১২২২

প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫০ অপরাহ্ণ
দেশে ১৫ মার্চ থেকে হাম ও হাম উপসর্গে মৃত্যু ১২২২
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক: সারাদেশে হাম এবং হামের সদৃশ উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা অত্যন্ত আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২২২ জনে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও আটজনের প্রাণহানি ঘটেছে। একই সময়ে নতুন করে হাম উপসর্গ ও নিশ্চিত হাম রোগী মিলিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ১ হাজার ৬৫ জন। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগে নতুন করে কোনো রোগীর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সারাদেশের মহামারি পরিস্থিতির এই হালনাগাদ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে নতুন করে ১ হাজার ১৪ জন ব্যক্তির শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গ এবং নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সর্বমোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮৮৪ জনে।

বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় ল্যাব টেস্টে নিশ্চিত হওয়া নতুন ৫১ জন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সারাদেশে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ৩২৪ জনে।

একই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়া গত ১৫ মার্চ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত হাম উপসর্গ নিয়ে সারাদেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন মোট ১ লাখ ৯৫ হাজার ৫১৪ জন। তবে তাঁদের মধ্যে অত্যন্ত সফলভাবে চিকিৎসা সেবা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছাড়পত্র লাভ করেছেন ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৫ জন।

মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আটজনের করুণ মৃত্যু ঘটেছে। এর ফলে ১৫ মার্চ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত কেবল হাম উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা পৌঁছেছে ১ হাজার ১১৮ জনে।

অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হওয়া হামের কারণে কোনো রোগী মারা না গেলেও, ১৫ মার্চ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত ল্যাব পরীক্ষাকৃত নিশ্চিত হামজনিত জটিলতায় সারাদেশে মোট ১০৪ জন মারা গেছেন। অর্থাৎ হাম ও হাম উপসর্গ দুই ক্যাটাগরি মিলে এ সময়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২২২ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও শিশু রোগ বিশেষজ্ঞরা দেশবাসীকে আতঙ্কিত না হয়ে শিশুদের নিয়মিত ইপিআই (EPI) টিকাদান কর্মসূচির আওতায় হাম-রুবেলা (MR) টিকা নিশ্চিত করার জোর পরামর্শ প্রদান করছেন। সেই সাথে শিশুদের তীব্র জ্বর ও শরীরে গুটি বা র‍্যাশ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।