কুষ্টিয়ায় অসচ্ছল জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ২০ লাখ টাকার শিক্ষাবৃত্তি প্রদান

প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৫ অপরাহ্ণ
কুষ্টিয়ায় অসচ্ছল জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ২০ লাখ টাকার শিক্ষাবৃত্তি প্রদান
কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে কৃতি ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের হাতে ‘আলহাজ্ব বেলায়েত হোসেন শিক্ষাবৃত্তি ২০২৬’-

কাঞ্চন কুমার, কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়া জেলায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫.০০ অর্জনকারী অথচ চরম আর্থিক সংকটে থাকা অসচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদান করা হয়েছে ‘আলহাজ্ব বেলায়েত হোসেন শিক্ষাবৃত্তি ২০২৬’।

আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা অব্যাহত রাখার সার্বিক প্রত্যয় নিয়ে কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে অত্যন্ত বর্ণাঢ্য এক আয়োজনের মাধ্যমে এই শিক্ষাবৃত্তির নগদ অর্থ হস্তান্তর করা হয়। আয়োজনে জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাছাইকৃত মোট ১০০ জন মেধাবী ও অসচ্ছল কৃতি শিক্ষার্থীর হাতে সর্বমোট ২০ লক্ষাধিক নগদ অর্থ ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান 'ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রা. লি.'-এর সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য ও স্মারক বিতরণ করেন প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটির মান্যবর উপাচার্য প্রফেসর ড. এ. এন. এম. মেশকাত উদ্দিন।

ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং আলহাজ্ব বেলায়েত হোসেন শিক্ষাবৃত্তি ফাউন্ডেশনের সুযোগ্য চেয়ারম্যান আলহাজ্ব বশির আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ, জেলা শিক্ষা অফিসার আবু তৈয়ব মোঃ ইউনুছ আলী, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ আব্দুল লতিফ সেখ এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মোঃ হেলালউজ্জামান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. এ. এন. এম. মেশকাত উদ্দিন বলেন, “আমাদের অনেক সন্তানের মেধা ও দূরদর্শিতা থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র পরিবারের আর্থিক টানাপোড়েন ও দেনার কারণে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন মাঝপথেই থমকে যায়। আলহাজ্ব বেলায়েত হোসেন শিক্ষাবৃত্তির এই অর্থ অসচ্ছল পরিবারের কৃতি শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা নির্বিঘ্নে চালিয়ে নিতে এবং তাদের সুদূরপ্রসারী ভবিষ্যতের লক্ষ্য অর্জনে এক পরম শক্তি ও অনুপ্রেরণা জোগাবে।”

সভাপতির বক্তব্যে আলহাজ্ব বশির আহমেদ বলেন, “সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক মূল্যবোধ থেকে আমরা এলাকার সুযোগ বঞ্চিত কিন্তু অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছি। শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড, তাই শিক্ষার সুযোগ সার্বজনীন করতে আগামীতেও আমাদের এই ধরনের জনকল্যাণমূলক সামাজিক উদ্যোগ নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত থাকবে।”

অনুষ্ঠানে কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও প্রান্তিক এলাকার বিদ্যালয়গুলো থেকে আসা ১০০ জন শিক্ষার্থীর হাতে অতিথিরা একে একে পদক, নগদ অর্থের চেক এবং সম্মাননা পদক তুলে দেন। এ সময় জেলাটির বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রবীণ শিক্ষক, গর্বিত অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের শুভকামনা জানান।