ইয়েনের দরপতন ঠেকাতে যৌথভাবে বাজারে নামছে জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: রবিবার, ০২ আগস্ট ২০২৬, ০১:০৮ অপরাহ্ণ
ইয়েনের দরপতন ঠেকাতে যৌথভাবে বাজারে নামছে জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র
টোকিও মুদ্রাবাজারে জাপানি ইয়েন ও মার্কিন ডলারের প্রতীকী বিনিময় চিত্র

অনলাইন ডেস্ক; আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে মূল্য নেমে বিগত চার দশকের মধ্যে সর্বকালের সর্বনিম্ন পর্যায়ে ঠেকেছে জাপানি মুদ্রা ‘ইয়েন’। জাপানের সামগ্রিক অর্থনীতি ও মূল্যস্ফীতিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলা এই দরপতন রুখতে এবার শক্তিশালী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সঙ্গে নিয়ে সরাসরি বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে যৌথ হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে টোকিও।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে সরকারের নীতি নির্ধারণী সূত্রগুলো জানিয়েছে, সোমবারই (৩ আগস্ট) যৌথ মুদ্রানীতি ও সমন্বিত পদক্ষেপ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন জাপানের অর্থমন্ত্রী সাতসুকি কাটায়ামা।

টোকিও ও ওয়াশিংটনের একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, ইয়েনের অতিরিক্ত অবমূল্যায়ন রোধে উভয় দেশ ডলার বিক্রি করে বিপুল পরিমাণ ইয়েন কেনার এক সমন্বিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। বিগত ২০১১ সালের পর—অর্থাৎ দীর্ঘ ১৫ বছরের মধ্যে এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান বিশ্ব মুদ্রা বাজারে এমন অভিন্ন ও আগ্রাসী পদক্ষেপ গ্রহণ করল।

তথ্য বিশ্লেষণ করে বাজার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ইয়েনকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে ইতোমধ্যে প্রায় ৫৮.৯৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ অর্থমূল্যের ডলার বিক্রি করে দিয়েছে ব্যাংক অব জাপান (বিওজে)। গত সপ্তাহে নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জ ও বৈশ্বিক মুদ্রা লেনদেনে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ট্রেজারি বিভাগও তাঁদের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা পাঠায়। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টও সম্প্রতি এক প্রতিক্রিয়ায় স্বীকার করেন যে, ডলারের তুলনায় ইয়েনের বাজারমূল্য অস্বাভাবিক রকম কমে গেছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ ও ব্যাংক অব জাপানের মধ্যে সুদের হারের বিশাল ফারাকই ছিল ইয়েন দুর্বল হওয়ার অন্যতম মূল নিয়ামক। তবে ইয়েন কিনতে গিয়ে যাতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে ট্রেজারি বন্ড বিক্রির চাপে পড়তে না হয়, সেজন্য ফেডারেল রিজার্ভের ‘রিপারচেজ সুবিধার’ আওতায় বিশেষ তারল্য ব্যবহারের পথ বেছে নেওয়া হচ্ছে।

একই সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যাংক অব জাপান শিগগিরই নীতিগত সুদের হার বাড়ানোরও ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছে। টোকিও ও ওয়াশিংটনের এই যৌথ অভিযানের মধ্য দিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরবে বলে প্রত্যাশা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

মন্তব্য করুন