অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্নীতির তদন্তে নামছে দুদক: সচিব
জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সম্প্রতি উত্থাপিত অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আমলে নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তে মাঠে নামবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সাথে সংস্থাটির ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার, কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনয়ন ও স্থবিরতা কাটাতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সংস্কারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন দুদকের নতুন সচিব সাইদুর রহমান খান।
আজ রোববার (২ আগস্ট) সেগুনবাগিচাস্থ দুদক কার্যালয়ে নতুন পদে যোগদান শেষে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেন।
সম্প্রতি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর ২০২৫ সালের একটি গবেষণা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়— ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলের তুলনায় পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের আঠারো মাসের মেয়াদে বিভিন্ন সেবাখাতে দুর্নীতির হার শতকরা ১০ ভাগের বেশি বেড়েছে। পরবর্তীতে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বিষয়টির তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায় এবং খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের যাবতীয় প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড দুদকের মাধ্যমে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করার আহ্বান জানান। এছাড়া ওই একই অধিবেশনে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পের ব্যাপক অনিয়মের চিত্রও তুলে ধরা হয়।
সংসদের এসব আলোচনার প্রেক্ষাপটে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে দুদকের নবনিযুক্ত সচিব সাইদুর রহমান খান জানান, “বর্তমান সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি ও সংসদ অধিবেশনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো কমিশন অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে। উত্থাপিত অভিযোগের সার্বিক গুরুত্ব বিবেচনা করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আইনি কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।”
বিগত প্রায় পাঁচ মাস ধরে নতুন কমিশনার নিয়োগ না হওয়ায় সংস্থাটির প্রশাসনিক গতি কমে গিয়েছিল উল্লেখ করে সচিব আশ্বস্ত করেন, “খুবই দ্রুততম সময়ে সরকার নতুন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে এবং কমিশন সচল হওয়ার সাথেই জমে থাকা তদন্তকাজ দ্রুত গতি পাবে।” সংস্থাটিকে ঘিরে জনসাধারণের নেতিবাচক ধারণা দূর করতে অভ্যন্তরীণ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথা জানান তিনি।
|