১০ বছরে ১৯ দুর্ঘটনা, লাইসেন্স ছাড়াই কক্সবাজারে চলছিল প্যারাসেইলিং

প্রকাশ: রবিবার, ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩৩ অপরাহ্ণ
১০ বছরে ১৯ দুর্ঘটনা, লাইসেন্স ছাড়াই কক্সবাজারে চলছিল প্যারাসেইলিং
কক্সবাজারের দরিয়ানগর সৈকতে নিহত পর্যটক অক্ষর শৌভিক রায়ের প্যারাসেইলিংয়ে ওঠার ঠিক আগের মুহূর্ত।

কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের দরিয়ানগর সৈকতে প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে পর্যটক অক্ষর শৌভিক রায়ের (৩০) মর্মান্তিক মৃত্যুর পর সমুদ্রসৈকতে পরিচালিত রোমাঞ্চকর রাইড বা ‘অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস’-এর নিরাপত্তাহীনতা ও প্রশাসনিক নজরদারির চরম ঘাটতি আবারও সামনে এসেছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দরিয়ানগর ও হিমছড়ি সৈকতে প্যারাসেইলিং পরিচালনাকারী তিনটি প্রতিষ্ঠানের কোনোটিরই যথাযথ সরকারি অনুমোদন বা নিরাপত্তা লাইসেন্স ছিল না। শুধু ইজারার ওপর ভর করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষিত জনবল ছাড়াই এসব প্রতিষ্ঠান বাণিজ্য চালিয়ে আসছিল।

গতকাল শনিবার যে ‘ফ্লাই এয়ার সি স্পোর্টস’ নামক প্রতিষ্ঠানের প্যারাসেইলিং থেকে ছিটকে পড়ে পর্যটক শৌভিক রায়ের মৃত্যু হয়েছে, সেই প্রতিষ্ঠানে গত ১০ বছরে রশি ছিঁড়ে, ঝাউবাগানের গাছে আটকে কিংবা বালুচরে সজোরে আছড়ে পড়ে অন্তত ১৯ জন পর্যটক মারাত্মক আহত হয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, সমুদ্র উত্তাল থাকা এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে গত ২৭ জুলাই থেকে জেলা প্রশাসন দরিয়ানগর ও হিমছড়ি এলাকার সব প্যারাসেইলিং বন্ধ ঘোষণা করেছিল। তবে প্রশাসনের নির্দেশ ও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এবং চোখ ফাঁকি দিয়ে টাকার লোভে পর্যটকদের ঝুঁকিপূর্ণ রাইডে নামাত প্রতিষ্ঠানটি।

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টুয়াক) উপদেষ্টা মফিজুর রহমান এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কোনো প্রশাসনিক তদারকি ছাড়াই সম্পূর্ণ অনভিজ্ঞ লোক দিয়ে এখানে প্যারাসেইলিং চালানো হয়। টাকা উপার্জনের লোভে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পর্যটকদের জীবনের ঝুঁকিতে ফেলছেন। বারবার দুর্ঘটনার পরও শক্ত আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ায় এ পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটছে।”

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, “কক্সবাজারের কোনো প্রতিষ্ঠানকেই প্যারাসেইলিং চালনার লাইসেন্স দেওয়া হয়নি। ইজারা নিয়ে তারা এই খেলাধুলা চালাত। বৈরী আবহাওয়ার কারণে কার্যক্রম বন্ধ রাখার স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও গোপনে এটি চালানো হচ্ছিল। ঘটনার পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গিয়ে মালামাল জব্দ করেছেন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

দুর্ঘটনার পর সরজমিনে দরিয়ানগর সৈকতে গিয়ে দেখা যায়, ‘ফ্লাই এয়ার সি স্পোর্টস’ অফিসে তালা ঝুলছে, স্পিডবোটগুলো সৈকতে এলোমেলো পড়ে আছে এবং মালিক মো. ফরিদসহ সব কর্মচারী আত্মগোপনে রয়েছেন।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ বাদী হয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বলয় ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে কঠোর নীতিমালার অধীনে এটি পরিচালনা না করলে পর্যটন খাতে এর নেতিবাচক প্রভাব আরও বিস্তৃত হবে বলে আশঙ্কা করছেন খাত-সংশ্লিষ্টরা।

মন্তব্য করুন