ইরানের চেয়ে কাতার বেশি বিপজ্জনক: ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: রবিবার, ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৪৩ অপরাহ্ণ
ইরানের চেয়ে কাতার বেশি বিপজ্জনক: ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী
ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট। (ছবি: সংগৃহীত/দ্য টাইমস অব ইসরায়েল)

বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পরম শত্রু ইরানের চেয়ে মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস সমৃদ্ধ দেশ কাতারকেই ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় ও সূক্ষ্ম হুমকি বলে মনে করেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট। সম্প্রতি এক রাজনৈতিক ঘোষণায় তিনি জানান, চলতি ২০২৬ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে তিনি কাতারকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলের ‘শত্রু রাষ্ট্র’ হিসেবে ঘোষণা করবেন।

শনিবার (১ আগস্ট) ইসরায়েলের হিব্রু ভাষার সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল ১২’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বেনেট বলেন, “ইরানের নীতি পরিষ্কার; তারা প্রকাশ্যে বলে—‘আমরা ইসরায়েলকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলব।’ কিন্তু কাতারের কৌশল সম্পূর্ণ ভিন্ন ও প্রবঞ্চনামূলক। তারা গোপনে পরোক্ষ কৌশলে ইসরায়েলের সর্বাত্মক ক্ষতি করে যাচ্ছে।”

সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী গুরুতর অভিযোগ তুলে বলেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরে ইসরায়েলি ভূখণ্ডে হামলা চালানো ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধা হামাসের নুখবা বাহিনীকে কাতার নিয়মিত অর্থায়ন করেছে। শুধু তা-ই নয়, কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘আল জাজিরা’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে কাতার বৈশ্বিক জনমতকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চালিত করছে।

নিজের বক্তব্যের স্বপক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে নাফতালি বেনেট ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে আলোচিত ‘কাতারগেট কেলেঙ্কারি’র প্রসঙ্গও টেনে আনেন। যেখানে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কয়েকজন ঘনিষ্ঠ ও সাবেক সহকারীর বিরুদ্ধে কাতারের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরির বিনিময়ে গোপনে বিপুল অর্থ গ্রহণের অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে।

বেনেট তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কাতার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে আমাদের প্রতিরক্ষা ও রাজনীতি ব্যবস্থার অভ্যন্তরে প্রবেশ করে বিষ ছড়াচ্ছে। এতদিন ধরে কাতারকে আনুষ্ঠানিকভাবে শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে তালিকাভুক্ত না করার সুযোগে ইসরায়েলের ভেতর থেকে দেশটির হয়ে কাজ করা আইনত নিষিদ্ধ করা সম্ভব হয়নি। ক্ষমতায় ফিরলে আমি প্রথম কাজ হিসেবে কাতারকে শত্রু রাষ্ট্র ঘোষণা করে এই নিরাপত্তা ঝুঁকি বন্ধ করব।” (সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল)

মন্তব্য করুন