চীনে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৫

প্রকাশ: রবিবার, ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৩২ অপরাহ্ণ
চীনে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৫
চীনের গানসু প্রদেশের ডিংসি শহরে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধারকারীদের তৎপরতা। (ছবি: সংগৃহীত/সিনহুয়া)

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় গানসু প্রদেশে আকস্মিক প্রবল বর্ষণ, পলিমাটির তোড় এবং ভয়াবহ ভূমিধসে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ২৫ জনে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় আরও অন্তত ২৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে আজ রোববার (২ আগস্ট) চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া নিশ্চিত করেছে।

উদ্ধারকারী সংস্থাসমূহের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৬ জুলাই গানসু প্রদেশের ডিংসি শহরের অন্তর্গত ওয়েইইউয়ান কাউন্টির একটি পর্যটন এলাকায় আকস্মিক বর্ষণ শুরু হলে পাহাড় থেকে শক্তিশালী হড়কা বান ও পলি নেমে আসে। এতে স্থানীয়দের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক ক্যাম্পিংরত পর্যটকও আটকা পড়েন। দুর্ঘটনার পর প্রাথমিক তথ্য বিশ্লেষণে ১০ জনের মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত করা হলেও পরবর্তীতে নিবিড় উদ্ধার অভিযান শেষে মৃতের সংখ্যা ২৫ জনে পৌঁছায়।

ঘটনাটিকে গুরুত্বের সাথে নিয়ে ‘চীনের জাতীয় দুর্যোগ প্রতিরোধ, প্রশমন ও ত্রাণ কমিশন’ গানসু প্রাদেশিক প্রশাসনকে দুর্গত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্তদের জরুরি ত্রাণ সরবরাহ এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের নির্দেশ প্রদান করেছে। টানা বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় এলাকাটিতে আরও ভূমিধসের আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করেছে স্থানীয় আবহাওয়া দপ্তর।

অন্যদিকে, দেশের পশ্চিম থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির বিস্তার ঘটছে। রাজধানী বেইজিং এবং ইনার মঙ্গোলিয়া প্রদেশে বজ্রঝড় ও অতিভারী বৃষ্টিপাতের আগাম অ্যালার্ট জারি করেছে চীনের জাতীয় আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ সংস্থা।

এছাড়া পার্শ্ববর্তী সিচুয়ান প্রদেশেও প্রবল বর্ষণ অব্যাহত থাকায় প্রায় ৬৪,৬০৯ জন বাসিন্দাকে জরুরি ভিত্তিতে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত কেবল সিচুয়ান প্রদেশ থেকেই ৮ লাখ ৮১ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তর করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ।

এদিকে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ঘনীভূত হওয়া শক্তিশালী ‘সুপার টাইফুন ডলফিন’ আগামী বুধবারের মধ্যে চীনের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে আঘাত হানতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া পূর্বাভাস বিভাগ। এতে দেশটির সামগ্রিক বন্যা ও দুর্যোগ পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন