কঙ্গনা-হৃত্বিকের পুরোনো তিক্ততায় নতুন কাদা ছোড়াছুড়ি

প্রকাশ: রবিবার, ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২৪ অপরাহ্ণ
কঙ্গনা-হৃত্বিকের পুরোনো তিক্ততায় নতুন কাদা ছোড়াছুড়ি
কঙ্গনা রানাউত ও হৃত্বিক রোশনের বহুচর্চিত অতীতের প্রতীকী চিত্র

বিনোদন ডেস্ক: বিতর্ক যেন চারবারের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী অভিনেত্রী ও বিজেপি সংসদ সদস্য কঙ্গনা রানাউতের পিছুই ছাড়ছে না। সম্প্রতি ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) আন্দোলন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জেন-জি প্রজন্মকে ‘নর্দমার প্রজন্ম’ বলে মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। তবে সেই রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কের জল গড়াতে গড়াতে শেষ পর্যন্ত এসে থামল অভিনেতা হৃত্বিক রোশনের সঙ্গে তাঁর ১০ বছরের পুরোনো আইনি তিক্ততায়।

পুরোনো এই বিবাদ নতুন করে চাঙ্গা হওয়ার নেপথ্যে রয়েছেন সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস। কঙ্গনার মন্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে তিনি ঠাট্টা করে বলেন, তাঁর বন্ধুরা তাঁকে তরুণ বয়সের হৃত্বিকের মতো দেখতে বলে কঙ্গনা নাকি তাঁর ওপর ক্ষেপেছেন। বিষয়টিতে রসিকতা থাকলেও এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে নেটদুনিয়ায়। লেখক ফ্রেডি বার্ডির একটি পোস্ট পরিস্থিতি আরও উসকে দেয়, যেখানে কঙ্গনার আচরণের প্রতি ইঙ্গিত করে লেখা হয়, ‘বিশ্বের উচিত হৃত্বিক রোশনের কাছে ক্ষমা চাওয়া।’

এ বিতর্ক নিয়ে নীরবতা ভেঙে হৃত্বিক একটি সংযত মন্তব্য করে লেখেন, “আপনি কাউকে অপছন্দ করেন বলেই অন্য কারো পক্ষ নিচ্ছেন—এটি সমাজে বড় একটি পদ্ধতির ভুলের ছোট রূপ। তথ্যের ভিত্তিতে সত্য প্রকাশ হওয়াটাই ন্যায্য, যদিও এখন আর কারই বা কী যায় আসে।”

হৃত্বিকের এমন মন্তব্যের পর চুপ থাকেননি কঙ্গনা রানাউত। নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ওই খবরের স্ক্রিনশট শেয়ার করে কঙ্গনা সরাসরি হৃত্বিককে আক্রমণ করে লেখেন, “প্রিয় হৃত্বিক, আমি আনন্দিত যে তুমি সাবা আজাদকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেয়েছ এবং তোমাদের দুজনকে খুব সুন্দর মানায়। তুমি যখন একটি সিরিয়াস সম্পর্কে আছ, তখন এভাবে পরোক্ষভাবে কোনো নারীকে খোঁচা দেওয়া তোমাকে মানায় না। আগুন নিয়ে খেলা বন্ধ কর এবং সঙ্গীকে অস্বস্তিতে না ফেলে যারা তোমার নাম ব্যবহার করে আমাকে বুলিং করছে তাদের থামাও।”

এদিকে, বিতর্ক তৈরি হওয়া একটি মিমে হৃত্বিকের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে ‘লাইক’ দেওয়ার একটি ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে বিতর্ক দ্বিগুণ মাত্রা পায়। যদিও পরবর্তীতে মূল পোস্ট ও লাইক—উভয়টিই মুছে ফেলা হয়।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ‘কাইটস’ ও ২০১৩ সালের ‘কৃষ ৩’ সিনেমায় কাজ করার সময় কঙ্গনা-হৃত্বিকের প্রেমের গুঞ্জন ছড়ায়। কিন্তু ২০১৬ সালে কঙ্গনা এক সাক্ষাৎকারে হৃত্বিককে ‘সিলি এক্স’ (বোকা প্রাক্তন) হিসেবে অ্যাখ্যা দিলে বিষয়টি আইনি নোটিশ ও পাল্টা মামলায় গড়ায়। কঙ্গনার দাবি ছিল হৃত্বিক প্যারিসে তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, পক্ষান্তরে হৃত্বিক বরাবরই সেই দাবি অস্বীকার করে কেবল পেশাগত সম্পর্কের বাইরে অন্য কিছু ছিল না বলে দাবি করে আসছেন।

মন্তব্য করুন