সিঙ্গেল দিবস আজ

প্রকাশ: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ
সিঙ্গেল দিবস আজ
একা সময় কাটানোর মুহূর্ত (ফাইল ছবি)।

নিজস্ব প্রতিবেদক: আজ ২৩ সেপ্টেম্বর, আন্তর্জাতিক ‘সিঙ্গেল দিবস’। যারা অবিবাহিত বা জীবনসঙ্গী ছাড়া একা জীবন কাটাচ্ছেন, তাদের জন্য দিনটি নিজেদের মতো করে উদ্‌যাপনের একটি বিশেষ উপলক্ষ।

ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, কারেন রিড নামের এক ব্যক্তি এই দিবসটির প্রচলন করেছিলেন। শুরুর দিকে ১ জানুয়ারি দিনটি পালন করা হলেও ২০১৭ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ২৩ সেপ্টেম্বর সিঙ্গেল দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রে মূলত এই দিনেই দিবসটি পালনের প্রচলন রয়েছে।

সমাজ ও পারিপার্শ্বিকতার চাপে অনেকে একা থাকার বিষয়টিকে নেতিবাচকভাবে দেখেন এবং মন খারাপ করেন। কিন্তু মনোবিদ ও জীবনধারা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একা থাকার বা সিঙ্গেল থাকার অনেক ইতিবাচক দিক রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় দিক হলো নিজের প্রতি পূর্ণ মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়া। একা থাকার এই সময়টিতে মানুষ নিজের ক্যারিয়ার গড়ায় গভীর মনোযোগ দেওয়ার পাশাপাশি নিজের পছন্দের কাজ, শখ ও ভ্রমণকে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারেন।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, অন্য কাউকে ভালোবাসার আগে নিজেকে ভালোবাসা জরুরি। একা থাকলে নিজের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের আরও বেশি যত্ন নেওয়ার সুযোগ মেলে। তাই একা বা সিঙ্গেল থাকা নিয়ে হীনম্মন্যতায় ভুগে মন খারাপ না করে, দিনটিকে নিজের মতো করে উপভোগ করা যেতে পারে। সিঙ্গেল দিবসের মূল উদ্দেশ্যই হলো মানুষ যেন একা থাকাকে কোনো দুর্বলতা বা সামাজিক চাপ না ভেবে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে পারে এবং তা আনন্দের সঙ্গে উদ্‌যাপন করতে পারে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা আয়োজনে দিনটি পালিত হয়।

সিঙ্গেল ডে যেভাবে এলো: ‘ডেজ অব দ্য ইয়ার’ নামক ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানের জনপ্রিয় আরেকটি সিঙ্গেল ডে মূলত চীনের একটি ছুটির দিন, যা দেশটির নানজিং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উদ্ভূত হয়েছিল। ধারণা করা হয়, ১৯৯০-এর দশকে একা থাকা শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে প্রথম এই দিবসটি চালু করা হয়।

যেহেতু ১১ নভেম্বর তারিখটিতে চারটি ‘১’ রয়েছে (১১/১১), তাই এই দিনটি চারজন একক ব্যক্তিকে প্রতিনিধিত্ব করে—এমন ধারণা থেকে নানজিং বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী প্রথম ‘সিঙ্গেলস ডে’ পালনের প্রচলন করেছিলেন। পরবর্তীতে এই ধারণাটি দ্রুত অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে তা চীনের মূলধারার সংস্কৃতির একটি বিশাল অংশে পরিণত হয়। বর্তমানে এই দিনে চীনের বহু মানুষ বন্ধু-বান্ধব বা আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করেন এবং কেনাকাটা ও ঘোরঘুরিতে মেতে ওঠেন। এমনকি চীনের এই দিনটি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম অনলাইন কেনাকাটার উৎসবেও রূপ নিয়েছে।

মন্তব্য করুন