খাবার পৌঁছে দেওয়ার ফাঁকে কবিতা লিখে চীনের মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য পুরস্কার জিতলেন রাইডার

প্রকাশ: সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ১২:১৮ অপরাহ্ণ
খাবার পৌঁছে দেওয়ার ফাঁকে কবিতা লিখে চীনের মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য পুরস্কার জিতলেন রাইডার

নিজস্ব প্রতিবেদক: অর্ডার অনুযায়ী খাবার পৌঁছে দেওয়ার কঠিন দায়িত্ব পালনের ফাঁকে ফাঁকে কাগজের টুকরোয় ছোট ছোট কবিতা লিখতেন তিনি। সেই সাধারণ লেখাই তাকে এনে দিল চীনের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য সম্মাননা।

ডেলিভারি রাইডারদের দৈনন্দিন ক্লান্তি, চাপ ও সংগ্রামের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা কবিতার সংকলন ‘লো ফ্লাইট’-এর জন্য বিখ্যাত 'লু শুন সাহিত্য পুরস্কার' লাভ করেছেন ৫৬ বছর বয়সী ওয়াং জিবিং। বিংশ শতাব্দীর আধুনিক চীনা সাহিত্যের অন্যতম প্রতীক লু শুনের স্মরণে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়।

চীনের জিয়াংসু প্রদেশে জন্ম নেওয়া ওয়াং পারিবারিক চরম আর্থিক টানাপোড়েনে কিশোর বয়সেই পড়ালেখা ছাড়তে বাধ্য হন। ফুড ডেলিভারির খাত বেছে নেওয়ার আগে তিনি রাজমিস্ত্রি, আবর্জনা সংগ্রাহক ও রাস্তার হকার হিসেবেও কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে ডেলিভারি রাইডার হিসেবে কাজ শুরু করার পর সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে এবং জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে লেখালেখি চালিয়ে যান। ২০২৪ সালে প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘লো ফ্লাইট’-এর জন্য তিনি প্রায় ২০০ জন রাইডারের সাক্ষাৎকার ও অভিজ্ঞতা সংগ্রহ করেছিলেন।

কাব্যগ্রন্থের বিশেষ একটি চরণে তিনি লিখেছেন, “কে বলে ডানা মেললেই আকাশে উঁচুতে ওড়া? নিচুতে ওড়াও তো এক ধরনের ওড়া।” সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের আত্মমর্যাদাকে ফুটিয়ে তোলা এই কবিতাগুলো চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

পুরস্কার পাওয়ার পর এক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওয়াং জিবিং বলেন, “খবরটি শোনার পর প্রথমে কিছুটা উদ্বিগ্ন ছিলাম, পরে দারুণ স্বস্তি পাই। গণমাধ্যমের বাড়তি নজরদারি কিছুটা মানসিকভাবে চাপ ফেললেও আমি স্বাভাবিক জীবনযাপন অব্যাহত রাখতে চাই। অন্তত ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত এই ডেলিভারির চাকরিটি আমি নিয়মিত চালিয়ে যেতে চাই। কারণ এটি আমাকে শারীরিকভাবে সক্রিয় রাখে এবং আমার জীবনধারাকে বদলে দেয় না।”

পুরস্কার পাওয়ার পরও নিজেকে একজন সাধারণ মেহনতি মানুষ হিসেবেই রাখতে পছন্দ করছেন এই কবি। তার এই অভাবনীয় জয় চীনে দিন দিন বেড়ে চলা শ্রমজীবী মানুষের লেখালেখি এবং সাহিত্যের মাধ্যমে নিজেদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে নতুন মাত্রা দিল।

মন্তব্য করুন