৬১ বছরের পুরোনো ঈদগাহ মাঠ দখলের অভিযোগ
তাড়াশ-রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের তাড়াশে সরকারি জমিতে অবস্থিত ৬১ বছরের পুরোনো একটি ঈদগাহ মাঠ এক রাতে জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে এক স্থানীয় প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। দখল পাকাপোক্ত করতে ঈদগাহের ইটের সীমানা প্রাচীর ভেঙে চতুর্দিক টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে।
গতকাল রোববার (১৯ জুলাই ২০২৬) রাতে উপজেলার দেশিগ্রাম ইউনিয়নের দেওড়া গ্রামে এ চাঞ্চল্যকর দখলের ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মো. জাহাঙ্গীর হোসেন (৩৫), যিনি ওই গ্রামের প্রভাবশালী জিয়াউল হকের ছেলে।
ঘটনার প্রতিকার ও সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে দেওড়া ঈদগাহ কমিটির সদস্য আলম জাহাঙ্গীর আজ সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে তাড়াশ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ জে এম নাহিদ হোসেনের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, দেওড়া গ্রামের গ্রামীণ পাকা সড়ক সংলগ্ন সাত শতক জমিতে প্রায় ৬১ বছর ধরে বংশপরম্পরায় স্থানীয় বাসিন্দারা ঈদের নামাজ আদায় করে আসছেন। চলতি ২০২৬ সালেও ঈদগাহ কমিটি বিধি মোতাবেক ওই জমির লিজ নবায়ন করে। তবে সম্প্রতি অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর হোসেন জমিটি নিজের পৈতৃক সম্পত্তি দাবি করে গ্রামবাসীর সাথে বিরোধ সৃষ্টি করেন। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার রাতে ভাড়াটে লোকবল নিয়ে তিনি ঈদগাহের ইটের দেয়াল ভেঙে ফেলেন এবং চারপাশ টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে পুরো সাত শতক জমি দখলে নেন।
সোমবার সকালে মাঠের চারদিকে টিনের বেড়া দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এলাকাবাসী। তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর '৯৯৯'-এ কল করা হলেও প্রশাসনের তাৎক্ষণিক সাড়া না পেয়ে পরবর্তীতে বিকেলে ভূমি অফিসে লিখিত অভিযোগ জমা দেন কমিটির নেতৃবৃন্দ।
দখলের বিষয়টি নির্দ্বিধায় স্বীকার করে অভিযুক্ত মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, "জমিটি আমার বাবার কেনা পৈতৃক সম্পত্তি। এতদিন গ্রামবাসীর বাঁধার মুখে নিজের জায়গা বুঝে নিতে পারিনি। এখন সুবিধাজনক সময় এসেছে, তাই আমার জমির দখল নিয়েছি।"
অন্যদিকে ঈদগাহ কমিটির সদস্য আলম জাহাঙ্গীর বলেন, "জমিটি মূলত সরকারি খাস সম্পত্তি। আমরা যথানিয়মে লিজ নিয়ে বছরের পর বছর সেখানে দুটি ঈদের জামাত আদায় করে আসছি। কিন্তু দখলদার ভুয়া কাগজপত্র বানিয়ে রাতারাতি পবিত্র ঈদগাহের জায়গাটি দখল করে নিয়েছেন।"
অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে তাড়াশ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ জে এম নাহিদ হোসেন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই বিষয়টি সরেজমিনে তদন্তের জন্য দেশিগ্রাম ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এআইএল/সকালবেলা