নয়াদিল্লিতে অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করলেন এ কে এম শামছুল ইসলাম
নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে দেশটির অত্যন্ত প্রভাবশালী জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) অজিত দোভালের সঙ্গে একটি বিশেষ বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নবনিযুক্ত প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম।
বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী দেশগুলোর আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতা জোট ‘বিমসটেক’-এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের মূল সম্মেলনের ঠিক আগের দিন, গত ১৫ জুলাই নয়াদিল্লিতে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। তবে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও কৌশলগত কারণে এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের বিষয়ে ঢাকা কিংবা নয়াদিল্লি—কোনো পক্ষের কাছ থেকেই এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা খতিয়ান প্রকাশ করা হয়নি।
২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মুখে দীর্ঘদিনের আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে গত দুই বছর ধরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে এক নজিরবিহীন টানাপোড়েন ও শীতলতা চলছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থা ভেঙে গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠন করলেও দুই প্রতিবেশী দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে তেমন কোনো দৃশ্যমান বা বড় ধরণের ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি।
তবে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর দীর্ঘ স্থবিরতার কাটিয়ে সম্প্রতি দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের সম্পর্কে কিছুটা উন্নতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। যদিও এখনো সীমান্ত হত্যা, জোরপূর্বক পুশ-ইন এবং পানি বণ্টনের মতো বেশ কিছু অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও অমীমাংসিত দ্বিপক্ষীয় ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে পর্দার আড়ালে তীব্র টানাপোড়েন ও মতবিরোধ রয়েই গেছে। এমন একটি জটিল ও সংবেদনশীল আঞ্চলিক পরিস্থিতির মধ্যেই বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সাথে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার এই মুখোমুখি বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো।
ভারতের রাষ্ট্রীয় আয়োজনে গত ১৬ জুলাই নয়াদিল্লিতে বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোর জাতীয় নিরাপত্তা প্রধানদের পঞ্চম সম্মেলন (5th BIMSTEC National Security Chiefs' Meeting) সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সম্মেলনে বাংলাদেশের হয়ে সরকারিভাবে প্রতিনিধিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম।
সম্মেলন শেষে গত ১৯ জুলাই বিমসটেক সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়, বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে জলদস্যুতা ও আন্তর্জাতিক অপরাধ রোধে সমুদ্রে চলাচলকারী বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর পেশাগত আচরণের বিষয়ে একগুচ্ছ যুগোপযোগী ও কঠোর নীতিমালা সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই নতুন আন্তর্জাতিক নীতিমালাগুলো সদস্য দেশগুলোর নিজস্ব সামুদ্রিক তৎপরতার ক্ষেত্রে পারস্পরিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তা বহুগুণ জোরদার করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে বিবৃতিতে বিশেষভাবে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা এবং থাইল্যান্ডের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলগুলোর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই আঞ্চলিক নিরাপত্তা সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল।
দিনব্যাপী চলা এই সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং প্রতিনিধিদলের প্রধানরা দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উদীয়মান আঞ্চলিক সন্ত্রাসবাদ ও সংগঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করার বিষয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া সাইবার নিরাপত্তা, সামুদ্রিক ও জ্বালানি খাতে যৌথ নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ডিজিটাল ও সড়ক যোগাযোগ বৃদ্ধি, কার্যকর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সহজতর করা এবং নিরাপত্তার জন্য প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হওয়া নতুন ও উদীয়মান ভূ-রাজনৈতিক হুমকি মোকাবিলায় বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ ও রণকৌশল নিয়ে নিজেদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় করেন।
|