ভারতে ইসলাম ও মুসলমানরা আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে: আরশাদ মাদানি

প্রকাশ: সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩১ অপরাহ্ণ
ভারতে ইসলাম ও মুসলমানরা আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে: আরশাদ মাদানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতে চলমান সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের রাজনীতির ফলে কেবল মুসলমানরাই নন, সুপরিকল্পিতভাবে ইসলাম ধর্মকেও আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা আরশাদ মাদানি।

সংগঠনটির উত্তর প্রদেশ শাখার উদ্যোগে আয়োজিত 'হিন্দু-মুসলিম ঐক্য সম্মেলনে' প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আজ সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) কাশ্মীর মিডিয়া সার্ভিস (কেএমএস) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বক্তব্যে মাওলানা আরশাদ মাদানি বলেন, "অতীতে সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীগুলোর মূল লক্ষ্য ছিল কেবল মুসলিম সম্প্রদায়। তবে বিগত কয়েক বছরে ঘৃণার রাজনীতি এমন মাত্রায় পৌঁছেছে যে, এখন সরাসরি ইসলাম ধর্মকেও নিশানা করা হচ্ছে। বিভাজনের এই রাজনীতি ভারতকে এমন এক মহাসংকটের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে, যেখান থেকে উত্তরণের কোনো পথ দেখা যাচ্ছে না।"

বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সকল ধর্মের মানবিক ও প্রগতিশীল মানুষদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি স্তরে সমন্বিত ও বাস্তবমুখী উদ্যোগ নিতে হবে। বিভিন্ন ধর্মীয় বিশ্বাসের সমমনা মানুষদের নিয়ে এক জোট না হলে সমাজ থেকে এই হিংসা দূর করা সম্ভব নয়।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে জমিয়ত প্রধান বলেন, ব্রিটিশবিরোধী প্রথম সংগ্রামের সূচনা হয়েছিল দিল্লির এক মাদ্রাসার বিখ্যাত আলেম আব্দুল আজিজ মুহাদ্দিস দেহলভীর হাত ধরে, যা পরবর্তীতে ১৮৫৭ সালের ঐতিহাসিক মহাবিদ্রোহের জ্বালানি যুগিয়েছিল। একইসাথে তিনি স্পষ্ট করেন, জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠন, যা ভারত স্বাধীন হওয়ার আগে ও পরে কেবল হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি বজায় রাখতে কাজ করে চলেছে।

সম্মেলনে তিনি সাম্প্রতিক পরীক্ষা সংক্রান্ত প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় তরুণ শিক্ষার্থীদের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি রামপুরের ঐতিহ্যবাহী মাওলানা মোহাম্মদ আলী জওহর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্কিত ভবন ভাঙার উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, নকশাগত ত্রুটির অজুহাতে স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিলে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন হুমকির মুখে পড়বে।

উত্তর প্রদেশের এই মহাসম্মেলনে বারাণসীর সংকট মোচন হনুমান মন্দিরের প্রধান মহন্ত বিশ্বম্ভর নাথ মিশ্র, ভারতের সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিং ছাড়াও বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও শিখ সম্প্রদায়ের প্রথম সারির ধর্মীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সকলেই সম্প্রীতি পুনঃপ্রতিষ্ঠায় মাওলানা মাদানির এ ধরনের উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন