ধর্ষণকারীর পক্ষে আবার কিসের উকিল তমা মির্জার
বিনোদন প্রতিবেদক : রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের নিষ্পাপ শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর বর্বরোচিত ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ ও ক্ষুরধার প্রতিবাদ প্রকাশ করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা তমা মির্জা। এই ভয়াবহ ও অবর্ণনীয় অপরাধের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়ে তিনি প্রশাসনের কাছে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আবেগঘন ও ক্ষুব্ধ পোস্টে তমা মির্জা লেখেন, “ধর্ষণকারীর চূড়ান্ত বিচার হতে হবে ধর্ষণের শিকার যে হয়েছে, তার পবিত্র জানাজার নামাজ সম্পন্ন হওয়ার ঠিক আগে। ঠিক এমন এক দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর বিচার হতে হবে, যা দেখে আগামী দিনে এসব নিকৃষ্ট অসুস্থ মস্তিষ্কের অপরাধীরা এই ধরনের জঘন্য অপরাধ করার চিন্তা নিজেদের স্বপ্নেও যেন কখনো ভাবতে না পারে।”
ঢাকাই সিনেমার এই সুপরিচিত অভিনেত্রী শুধু মূল অপরাধীদের কঠোর শাস্তির দাবিই করেননি, বরং দেশের প্রচলিত আইনি ব্যবস্থায় ধর্ষণ মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবীদের ভূমিকা নিয়েও অত্যন্ত জোরালো ও নৈতিক প্রশ্ন তুলেছেন। আইনজীবীদের প্রতি তীব্র ক্ষোভ ও উষ্মা প্রকাশ করে তমা মির্জা আরও লেখেন, “এখানে কিসের এত তদন্ত? কিসের এত আইনি ব্যাখ্যা? একজন প্রমাণিত ও স্বীকারোক্তি দেওয়া ধর্ষণকারীর পক্ষে আবার কিসের উকিল দাঁড়াবে? কিসের জন্য এই বিচার প্রক্রিয়ায় দিনের পর দিন এত সময়ক্ষেপণ করা হবে?”
নৃশংসতার শিকার হয়ে অকালে প্রাণ হারানো দ্বিতীয় শ্রেণির ছোট্ট শিশু রামিসাকে নিজের একান্তই পরিবারের সদস্যের সঙ্গে তুলনা করে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জোরালো আহ্বান জানান তমা মির্জা। নিজের লেখার শেষ অংশে তিনি বলেন, “রামিসা কেবল একটি সাধারণ মেয়ে নয়; রামিসা আমার বোন, রামিসা আপনারও বোন। আমাদের সবার বোনের এই নৃশংস ও পৈশাচিক হত্যাকারীর আমি অবিলম্বে প্রকাশ্য আদালতে সর্বোচ্চ বিচার চাই।”
প্রসঙ্গ উল্লেখ্য, মিরপুরের পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় গলা কেটে হত্যার ঘটনায় ইতিমধ্যেই মূল অভিযুক্ত আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘাতক সোহেল রানা বিজ্ঞ আদালতে হাজির হয়ে নিজের দোষ সম্পূর্ণ স্বীকার করে রোমহর্ষক জবানবন্দি দিয়েছে। সিআইডি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জবানবন্দিতে সে ঘটনার ঠিক আগে নিজে মারাত্মকভাবে ইয়াবা ও অন্যান্য মাদক সেবন করার কথাও সরাসরি স্বীকার করেছে। মাদকাসক্ত হয়েই সে প্রতিবেশী শিশুকে ঘরে ডেকে এনে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড ঘটায়। এই ঘটনার পর থেকেই শোবিজ অঙ্গনের অন্যান্য তারকারাও তমা মির্জার মতো বিচারের দাবিতে সোচ্চার হচ্ছেন।
জান্নাত সকালাবেলা
|