নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে ট্রাফিক সার্জেন্ট ক্লোজড
গাইবান্ধা প্রতিনিধি: আপত্তিকর অবস্থায় নারীসহ স্থানীয়দের হাতে অবরুদ্ধ হওয়ার অভিযোগে গাইবান্ধা জেলা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট জাহাঙ্গীর আলমকে ক্লোজড (প্রত্যাহার) করা হয়েছে। গত ১৯ জুন রাতে এক আদেশের মাধ্যমে তাঁকে ট্রাফিক দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।
গাইবান্ধা জেলা ট্রাফিক বিভাগের পরিদর্শক (টিআই) আলতাব হোসেন আজ রবিবার (২১ জুন) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সার্জেন্ট জাহাঙ্গীর গাইবান্ধায় কর্মরত থাকার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ট্রাফিক সচেতনতা ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নিয়মিত ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করতেন। এই কনটেন্ট তৈরির সূত্র ধরেই ‘নিঝুম’ নামের এক নারী ফেসবুক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সখ্যতা গড়ে ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, গত ১৭ জুন রাতে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী পৌরসভার হরিণমারী এলাকার একটি ভাড়া বাসায় ওই নারীসহ সার্জেন্ট জাহাঙ্গীর অবস্থান করছিলেন। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় লোকজন বাসাটি ঘেরাও করে এবং তাঁদের দুজনকে আপত্তিকর অবস্থায় অবরুদ্ধ করে রাখে। এ সময় স্থানীয়রা তাঁদের কাছ থেকে ইয়াবা নামের নিষিদ্ধ মাদক উদ্ধার করা হয়েছে বলেও দাবি করেন। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পলাশবাড়ীর এই অপ্রীতিকর ঘটনার পরিপ্রক্ষিতেই সার্জেন্ট জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক এই বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলো।
এ বিষয়ে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) আলতাব হোসেন জানান, পলাশবাড়ী পৌরসভার হরিণমারী এলাকার ওই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর সার্জেন্ট জাহাঙ্গীরকে ট্রাফিক বিভাগ থেকে ক্লোজ করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা নৈতিক স্খলন ও মাদক সংক্রান্ত অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত হতে পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত চালানো হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এআইএল/সকালবেলা
|