বেওয়ারিশ কুকুর অপসারণের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের রুল
অনলাইন ডেস্ক: রাজধানী ঢাকা থেকে বেওয়ারিশ কুকুর অপসারণ ও স্থানান্তরের কার্যক্রমের ওপর রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ঢাকাসহ দেশব্যাপী পথকুকুর নিয়ন্ত্রণে সিএনভিআর (ধরা-বন্ধ্যাকরণ-টিকাদান-ছেড়ে দেওয়া) ও গণটিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ রবিবার (২১ জুন) বিচারপতি আহমেদ সোহেল এবং বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. তৌফিকুল ইসলাম খান।
এর আগে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বিভিন্ন এলাকা থেকে বেওয়ারিশ কুকুর অপসারিত করার পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করে ‘এএলবি অ্যানিমেল শেল্টার’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দীপান্বিতা হৃদি হাইকোর্টে এই রিট পিটিশনটি দায়ের করেছিলেন।
আদালত তাঁর অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। এই কমিটিকে ডিএসসিসি এলাকায় পথকুকুরদের জন্য ‘ম্যাস ডগ ভ্যাক্সিনেশন’ (এমডিভি) ও সিএনভিআর কর্মসূচির সম্ভাব্যতা যাচাই করে তা দ্রুত শুরু করতে বলা হয়েছে এবং নিয়মিত অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের জারিকৃত রুলে স্থানীয় সরকার বিভাগের গত বছরের (১৫ ডিসেম্বর ২০২৫) পরিপত্র এবং প্রাণী কল্যাণ আইন, ২০১৯-এর ধারা লঙ্ঘন করে বেওয়ারিশ কুকুর অপসারণের কার্যক্রম কেন বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
আদেশের পর সন্তোষ প্রকাশ করে রিটকারী দীপান্বিতা হৃদি বলেন, "এই আদেশ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে পথকুকুর ব্যবস্থাপনার একমাত্র গ্রহণযোগ্য সমাধান হলো বন্ধ্যাকরণ ও মানবিক ব্যবস্থাপনা, হত্যা বা অপসারণ নয়। এটি দেশব্যাপী বাস্তবায়ন করা জরুরি।"
উল্লেখ্য, আদালতের এই আদেশের ঠিক আগের দিন গতকাল শনিবার (২০ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে পথকুকুর নিধন বন্ধ ও প্রাণী কল্যাণ আইন বাস্তবায়নের দাবিতে ‘গ্রিট ফাউন্ডেশন’ সহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পরিবেশ ও প্রাণিকল্যাণ কর্মীদের মতে, হাইকোর্টের এই ঐতিহাসিক রায় বাংলাদেশে মানুষ ও পথপ্রাণীর নিরাপদ সহাবস্থান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক।
|