ধর্ষণ ও গর্ভপাত মামলায় শিবির নেতা জিসানের দুই দিনের রিমান্ড

প্রকাশ: রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০৭:৫৩ অপরাহ্ণ
ধর্ষণ ও গর্ভপাত মামলায় শিবির নেতা জিসানের দুই দিনের রিমান্ড

অনলাইন ডেস্ক: এক বিধবা নারীকে ধর্ষণ এবং জোরপূর্বক গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার ইসলামী ছাত্রশিবিরের বহিষ্কৃত কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানের (২৮) দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ রবিবার (২১ জুন) দুপুরে কুমিল্লার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক তৈয়ব উদ্দিন আহমেদ শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।

আদালত ও আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, দাউদকান্দি থানার এই মামলায় কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা জিসানকে আজ দুপুরে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি শামসুল আলম শাহ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষ থেকে রিমান্ড নামঞ্জুর ও জামিনের আবেদন করা হলেও আদালত তা নাকচ করে দুই দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন এবং আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তা কার্যকরের নির্দেশ দেন।

জিসানের আইনজীবী মনির হোসেন পাটোয়ারী সাংবাদিকদের জানান, তাঁরা জামিন ও রিমান্ড নামঞ্জুরের আবেদন করেছিলেন, তবে আদালত তা গ্রহণ করেননি। ডিবি পুলিশের ওসি শামসুল আলম শাহ জানান, তদন্তের স্বার্থে আসামিকে কখন ডিবি হেফাজতে নেওয়া হবে তা এখনই প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

এর আগে গত ১১ জুন জিসান নিখোঁজ হয়েছেন দাবি করে তাঁর পরিবার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে এবং তিনি অপহরণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ তোলে। তবে পুলিশি অনুসন্ধানে জানা যায়, ফেসবুকের মাধ্যমে এক বিধবা নারীর সাথে প্রেমের সম্পর্কের জেরে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে জিসান তাঁকে গর্ভপাত করতে বাধ্য করেন। পরে বিয়ের চাপ এড়াতেই তিনি ১১ জুন রাতে আত্মগোপনে চলে যান। পরদিন ১২ জুন রাতে লাকসাম এলাকা থেকে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে। ওই রাতেই ভুক্তভোগী নারী মামলা দায়ের করলে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জিসানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সুস্থতার ছাড়পত্র পাওয়ার পর গত ১৬ জুন আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য, অভিযুক্ত জিসান মিয়া প্রধান ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি ছিলেন। এই ঘটনার পর ‘প্রেম করার অপরাধে’ সংগঠন থেকে তাঁকে ইতিমধ্যে বহিষ্কার করা হয়েছে। এই মামলার অন্য তিন আসামিও বর্তমানে কুমিল্লা কারাগারে রয়েছেন।

মন্তব্য করুন