ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি, নাটোর: প্রকৃতি যেন নিজ হাতে সাজিয়েছে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার তিরাইল গ্রামকে। শুধু শীত মৌসুমেই নয়, এখন বছরের প্রায় পুরো সময়জুড়েই হাজার হাজার শামুকখোলসহ নানা প্রজাতির পাখির স্থায়ী নিবাসে পরিণত হয়েছে এই গ্রাম। ভোরের আলো ফুটতেই পাখির কিচিরমিচিরে মুখর হয়ে ওঠে তিরাইল, আর সন্ধ্যা নামলে আকাশজুড়ে হাজারো ডানার নাচন গ্রামটিকে করে তোলে এক জীবন্ত পাখির রাজ্য।
তিরাইল গ্রামের কড়ই, শিমুল ও বাঁশবাগানজুড়ে গড়ে উঠেছে শামুকখোল পাখির বিশাল কলোনি। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে পাখিগুলো এখানে নিয়মিত প্রজনন করছে এবং গ্রামটিকে তাদের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেছে নিয়েছে। ধূসর-সাদা দেহ আর কালো ডানাযুক্ত এই সারসজাতীয় পাখিগুলো খাল-বিলের শামুক ও পোকামাকড় খেয়ে জীবনধারণ করে, যা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গ্রামের বাসিন্দারা এখন পাখির ডাক শুনেই ঘুম থেকে ওঠেন এবং এই পাখিদের নিজেদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মনে করেন।
তবে এই অপরূপ সৌন্দর্যের মাঝেও রয়েছে শঙ্কার কালো মেঘ। কিছু অসচেতন মানুষের শিকার ও নিধনের কারণে পাখির সংখ্যা কমছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। রাতের আঁধারে ফাঁদ পেতে বা গুলতি ব্যবহার করে পাখি শিকারের ঘটনা মাঝেমধ্যেই ঘটছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, তিরাইল গ্রামটি একটি পরিবেশগত সম্পদ এবং এখানে পাখি নিধন বন্ধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের পাখি শিকারির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
জান্নাত/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ