ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের একটি সম্ভাব্য ‘অফ-র্যাম্প’ খুঁজতে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে। তবে গভীর অবিশ্বাস, যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে মতপার্থক্য এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা এই আলোচনাকে শুরুতেই কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। তার সঙ্গে থাকবেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আয়োজক হিসেবে দুই পক্ষের সাথে আলাদা বৈঠক করবেন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করবেন।
নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি আলোচনা ঘিরে ইসলামাবাদে জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও রেড জোন সিল করে দেওয়া হয়েছে। ৯ ও ১০ এপ্রিল রাজধানীতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার সকালে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে, যা ১৫ দিন পর্যন্ত চলতে পারে।
প্রেক্ষাপট ও এজেন্ডা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত হামলায় ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার ছয় সপ্তাহ পর এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যুদ্ধের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আলোচনার প্রধান এজেন্ডার মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালীর তদারকি, মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ত্যাগ করার দাবি।
প্রতিবন্ধকতা ও সম্ভাবনা বিশ্লেষকদের মতে, পারস্পরিক অবিশ্বাস ও লেবানন ইস্যু আলোচনার প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরান যুদ্ধবিরতির শর্তে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করতে চাইলেও যুক্তরাষ্ট্র তাতে অসম্মতি জানাচ্ছে। তবে উভয় পক্ষের ক্লান্তি এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা একটি সীমিত সমঝোতার পথ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাকিস্তানের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘ সীমান্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সম্পর্ক থাকায় ইসলামাবাদ এই আলোচনায় গ্রহণযোগ্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উঠে এসেছে।
আই.এ/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ