চৈত্র সংক্রান্তিতে তিতা খাওয়ার লোকজ ঐতিহ্য ও স্বাস্থ্যকথা

চৈত্র সংক্রান্তিতে তিতা খাওয়ার লোকজ ঐতিহ্য ও স্বাস্থ্যকথা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: সংক্রান্তিতে তিতা খাওয়ার প্রথা মূলত আমাদের উপমহাদেশের লোকাচার, ঋতুচক্র ও প্রতীকী ভাবনার সঙ্গে জড়িত। তিতা স্বাদ জীবনের কষ্ট, দুঃখ বা তিক্ত অভিজ্ঞতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। নতুন বছরে বা নতুন ঋতুর শুরুতে এই তিতা খেয়ে মূলত জীবনের সব স্বাদ (মিষ্টি, টক, তিতা) গ্রহণ করার মানসিক প্রস্তুতির বহিঃপ্রকাশ ঘটানো হয়।

ঋতু পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে বৈজ্ঞানিক ও প্রাকৃতিক কারণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংক্রান্তির এই সময়টা মূলত শীত থেকে বসন্ত এবং এরপর গ্রীষ্মে যাওয়ার পর্যায়। এই সময়ে শরীরকে ডিটক্স বা বিষমুক্ত করতে তিতা খাবার (যেমন নিমপাতা বা করলা) খাওয়ার প্রচলন আছে, যা হজম প্রক্রিয়া ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক। গ্রামবাংলায় বিশ্বাস আছে, তিতা খাবার শরীরের ‘দোষ’ কমায়, রক্ত পরিষ্কার করে এবং আসন্ন গরমের জন্য শরীরকে প্রস্তুত করে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই প্রথা আমাদের সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধনকেও শক্তিশালী করে।

বছরের শেষ দিনটি শহরের তুলনায় গ্রামেই বেশি সাড়ম্বরে উদযাপিত হয়। গ্রামবাংলার নারীরা নানা পদের ঐতিহ্যবাহী খাবার তৈরি করে বছরকে বিদায় জানান। চৈত্র সংক্রান্তিতে মেয়ে-জামাইদের দাওয়াত করে খাওয়ানোর একটি প্রাচীন রীতি রয়েছে। খাবারের তালিকায় থাকে সেঁচি শাক ভাজি, করলার ফোঁড়ন, সজনে ডাল, ছোট মাছের পেষা ভর্তা, পাট শাক ও ডালের চচ্চড়ি, টালা টমেটোর চাটনি এবং আলু, কচু, বেগুন ও টমেটো দিয়ে তৈরি পাঁচফোড়নের নিরামিষ।

চৈত্রের চড়া রোদে রুচি বাড়াতে ডাল, টক ও তিতা খাবারের কদর বেশি থাকে। এ সময় মটর ডাল রান্না করা হয় বিশেষ পদ্ধতিতে। লবণ ও হলুদ দিয়ে সেদ্ধ করা ডালের সঙ্গে আলাদা করে ভেজে রাখা করলা মিশিয়ে দেওয়া হয়। স্বাদে ভিন্নতা আনতে আদা বাটা ও বাগারের সময় তেজপাতা ও শুকনা মরিচ ব্যবহার করা হয়। মূলত ঐতিহ্যের স্বাদ আর সুস্বাস্থ্যের সমন্বয়ই চৈত্র সংক্রান্তির খাবারের মূল বৈশিষ্ট্য।

আই.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন