কাদিয়ানী, হিযবুত তাওহীদ ও ইসকন নিষিদ্ধের দাবি খতমে নবুওয়তের
স্টাফ রিপোর্টার: দেশে ইসলামি মূল্যবোধ সংরক্ষণ, মুসলমানদের ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ড বন্ধে সরকারের প্রতি ১১ দফা দাবি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশ।
আজ বুধবার (১০ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী এই দাবি জানান।
বিবৃতিতে মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী বলেন, “বাংলাদেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। এ দেশের মানুষের ঈমান, আকীদা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখিয়ে সরকারকে অনতিবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।”
সংগঠনটির পক্ষ থেকে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং মুসলিম জনগোষ্ঠীর ঈমান-আকিদা সংরক্ষণের স্বার্থে যে ১১টি প্রধান দাবি উপস্থাপন করা হয়েছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: আহমদিয়া মুসলিম জামাতকে (কাদিয়ানী) রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করা। কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা ও প্রকাশনা নিষিদ্ধ করা। হিযবুত তাওহীদসহ সকল ‘ভ্রান্ত’ ও বিতর্কিত চরমপন্থী সংগঠন এবং ইসকনসহ (ISKCON) উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িত সংগঠনগুলোর কার্যক্রম বাংলাদেশে সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা। ইসলাম ধর্ম, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এবং পবিত্র কুরআন-সুন্নাহ অবমাননার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির (মৃত্যুদণ্ড) বিধান রেখে কঠোর আইন প্রণয়ন করা। ইসলামবিরোধী অপপ্রচার ও মূল্যবোধবিরোধী অপসংস্কৃতির বিস্তার রোধ করা। সকল স্তরের শিক্ষাব্যবস্থায় ইসলামি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা এবং কুরআন-সুন্নাহবিরোধী যেকোনো আইন বাতিল করা। পাবলিক প্লেসে ভাস্কর্য বা মূর্তির নির্মাণ বন্ধ করা। মসজিদ-মাদরাসার নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং দেশব্যাপী ধর্মীয় ওয়াজ মাহফিলে সব ধরনের প্রশাসনিক বাধা অপসারণ করা।
বিবৃতিতে নাটক, সিনেমা, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ও মূলধারার গণমাধ্যমে দাড়ি-টুপি, হিজাব কিংবা সুনির্দিষ্ট ধর্মীয় পোশাককে নেতিবাচক, খলনায়ক বা ব্যঙ্গাত্মক চরিত্র হিসেবে উপস্থাপনের তীব্র বিরোধিতা করা হয়। একই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত ও অবহেলিত এলাকায় এনজিও এবং খ্রিস্টান মিশনারিদের মাধ্যমে অর্থ বা প্রলোভন দেখিয়ে ধর্মান্তকরণ কার্যক্রমের অভিযোগ তুলে তা তদন্ত ও বন্ধের জোর আহ্বান জানানো হয়।
মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “উত্থাপিত এসব দাবি দেশের কোটি কোটি তৌহিদী জনতার হৃদয়ের দাবি। সরকার যদি এ বিষয়ে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করে, তাহলে দেশের শীর্ষ উলামায়ে কেরাম ও ধর্মপ্রাণ জনগণ রাজপথে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে।”
তবে খতমে নবুওয়তের বিবৃতিতে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগ, দাবি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের বিষয়ে কোনো স্বাধীন সত্যতা বা সরকারি আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
এআইএল/সকালবেলা
|