আত্মসমর্পণের পর কারাগারে আ.লীগ নেতা হাসনাত
খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে বর্বরোচিত হামলার মামলায় সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাসনাত হোসাইনকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আজ বুধবার (১০ জুন) দ্রুত বিচার আইনের একটি মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে বিজ্ঞ বিচারক তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট আদালত সূত্রে জানা গেছে, ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আজ দুপুরে সুনামগঞ্জের বিজ্ঞ বিচারক নুরুল হকের আদালতে আত্মসমর্পণ করেন আওয়ামী লীগ নেতা হাসনাত হোসাইন। ওই সময় তাঁর আইনজীবী জামিনের জোর আবেদন জানান। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের তীব্র বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালতের বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. কামাল হোসেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট সুনামগঞ্জ পৌর শহরে ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলাকালে আন্দোলনকারীদের ওপর আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এই হামলায় জহুর আহমদ নামের এক আন্দোলনকারী গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে আহত জহুর আহমদের ভাই দোয়ারাবাজার উপজেলার বাসিন্দা হাফিজ আহমদ বাদী হয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
উক্ত মামলায় সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানসহ মোট ৯৯ জনের নাম উল্লেখ করে এজাহারনামীয় আসামি করা হয়। এছাড়াও মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২৫০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছিল। এই মামলার অন্যতম প্রধান আসামি ছিলেন শান্তিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাসনাত হোসাইন।
উল্লেখ্য, সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সরকারের দায়িত্বে থাকাকালীন হাসনাত হোসাইন তাঁর অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাদের উভয়ের বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলার ডুংরিয়া গ্রামে।
এদিকে আওয়ামী লীগের এই প্রভাবশালী নেতার আদালতে আত্মসমর্পণ ও পরবর্তীতে জামিন নামঞ্জুর হয়ে কারাগারে যাওয়ার আদেশের পর সুনামগঞ্জের স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
এআইএল/সকালবেলা
|