প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: শামা ওবায়েদ

প্রকাশ: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০৯:৫৩ অপরাহ্ণ
প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: শামা ওবায়েদ

অনলাইন ডেস্কবুধবার (১০ জুন ২০২৬) জাতীয় সংসদে আলোচনায় অংশ নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানিয়েছেন, রেমিট্যান্স যোদ্ধা ও বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের কল্যাণ ও নিরাপত্তাকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রবাসীদের সমস্যা সমাধান, নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা, দূতাবাস সেবার মান উন্নয়ন এবং অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন ও চলমান রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী সংসদে জানান, যুদ্ধ ও সংঘাতপূর্ণ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের কয়েকজন নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে সরকার তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ, মরদেহ দেশে আনা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করছে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

অবৈধ অভিবাসনের বিষয়ে তিনি বলেন, বিশেষ করে লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ রুটে দালাল চক্র সক্রিয় রয়েছে। এই চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এবং সংকট মোকাবিলায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রথমবারের মতো একটি ‘মাইগ্রেশন উইং’ চালু করেছে। এই উইং প্রবাসীদের সমস্যা সমাধান এবং বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের সংকট মোকাবিলায় কাজ করবে।

তিনি আরও জানান, দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে দূরবর্তী এলাকায় কনস্যুলার ক্যাম্প আয়োজন করে পাসপোর্টসহ বিভিন্ন সেবা প্রবাসীদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। জরুরি সহায়তার জন্য ২৪ ঘণ্টা হটলাইন চালু রয়েছে, যাতে বিপদে পড়লে প্রবাসীরা সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন দেশে আটক বাংলাদেশিদের মুক্ত করে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করে দ্রুত প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ২০২৫ সালের শেষ দিক থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফেরানো সম্ভব হয়েছে।

তিনি লেবানন ও ইসরায়েল সংঘাত পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ করেন। বলেন, বৈরুত দূতাবাস যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কর্মহীন ও বাস্তুচ্যুত বাংলাদেশিদের খাদ্যসহ জরুরি সহায়তা দিচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।

দূতাবাসে অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ৮১টি বিদেশি মিশন নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথাও অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অবৈধ অভিবাসনের ঝুঁকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশেষ করে ইতালি ও লিবিয়া রুটে দালাল চক্র বেশি সক্রিয়। এ সমস্যা সমাধানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিদেশি সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে। একই সঙ্গে দেশের ৬৪ জেলার প্রশাসনকে জনসচেতনতা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সবশেষে শামা ওবায়েদ বলেন, প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নের বড় শক্তি। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সমস্যা সমাধান করা এবং কল্যাণে কাজ করাই সরকারের মূল অগ্রাধিকার। সরকার ইতোমধ্যে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে এবং এর ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মন্তব্য করুন