অগ্নিকাণ্ডে নিঃস্ব ৩ হিন্দু পরিবারকে নিজের ঘরে আশ্রয় দিলেন মুসলিম যুবক

অগ্নিকাণ্ডে নিঃস্ব ৩ হিন্দু পরিবারকে নিজের ঘরে আশ্রয় দিলেন মুসলিম যুবক

নিজস্ব প্রতিবেদক: উত্তর ত্রিপুরার কৈলাসহর মহকুমার গৌরনগর এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সব হারানো তিনটি হিন্দু পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন আফতাব আলী নামে এক মুসলিম যুবক। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে লাগা আগুনে তিনটি পরিবারের বসতভিটা ভস্মীভূত হয়ে গেলে, কোনো দ্বিধা না করে নিজের ঘরের দরজা তাদের জন্য খুলে দেন তিনি।

জানা গেছে, গত সপ্তাহে ভয়াবহ ওই অগ্নিকাণ্ডে মুহূর্তের মধ্যে আসবাবপত্র, খাদ্যশস্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সব কিছু হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে এসে দাঁড়ান শিশু ও বৃদ্ধসহ ১৪ জন সদস্য। হাড়কাঁপানো শীতে যখন পরিবারগুলো দিশেহারা, তখন প্রতিবেশী যুবক আফতাব আলী নিজের বাড়ির তিনটি ঘর খালি করে তাদের থাকার ব্যবস্থা করেন। কেবল আশ্রয় দিয়েই ক্ষান্ত হননি, তাদের রান্নার সরঞ্জাম, গ্যাস সিলিন্ডার, বিছানা এবং রেশনের ব্যবস্থাও করেছেন তিনি।

নিজের এই মানবিক উদ্যোগ প্রসঙ্গে আফতাব আলী বলেন, "মানুষ হিসেবে মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় ধর্ম। তারা আমার প্রতিবেশী, তাদের এই কষ্ট আমি সহ্য করতে পারছিলাম না। এই সময়ে ধর্ম কোনো বিবেচ্য বিষয় নয়।"

আফতাব আলীর এই মহৎ উদ্যোগের খবর পেয়ে সহায়তায় এগিয়ে আসে ‘শেখ ফাউন্ডেশন’ নামে একটি সামাজিক সংস্থা। তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য এক মাসের রেশন, নতুন পোশাক এবং শিশুদের পড়াশোনার সামগ্রী প্রদান করে। ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা মকবুল আলী জানান, বিপদের সময় পুরো সমাজের দায়িত্ব ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকা এবং এটিই প্রকৃত মানবতা। ত্রাণ বিতরণে আব্বাস আলী আল-জলিলি, শেখ জসিমুদ্দিনসহ স্থানীয় যুবকরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

বর্তমানে পরিবারগুলো আফতাবের আশ্রয়ে থাকলেও ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণে তারা সরকারি সাহায্যের অপেক্ষায় রয়েছেন। তবে প্রতিবেশী ভাইয়ের এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও মানবিকতা ক্ষতিগ্রস্তদের মনে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন জুগিয়েছে। এলাকাবাসীর মতে, ত্রিপুরার এই ঘটনা প্রমাণ করে যে আজও ভাতৃত্ববোধ ও মানবিকতা অটুট রয়েছে।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন