হামের উপসর্গে দেশে আরও ৭ শিশুর করুণ মৃত্যু
আজ রবিবার (৭ জুন) বিকেল ৪টা ২৮ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘জাতীয়, জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসাবিজ্ঞান’ এবং ‘সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ, শিশু স্বাস্থ্য ও টিকাদান কর্মসূচী, জাতীয় মহামারী ট্র্যাকিং ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মনিটরিং উইং’ বিভাগের বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে দেশের হাম পরিস্থিতির সর্বশেষ ভয়াবহ খতিয়ান বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (DGHS) ইপিআই ও রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা থেকে আজ রবিবার বিকেলে প্রকাশিত হাম সংক্রান্ত নিয়মিত ও সর্বশেষ বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল শনিবার সকাল ৮টা থেকে শুরু করে আজ রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে এই ৭ শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া শিশুদের ভৌগোলিক অবস্থান বিশ্লেষণ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে ঢাকা (Dhaka) বিভাগে; যেখানে একযোগেই চারজন শিশু মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এছাড়া চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ এবং খুলনা বিভাগে একজন করে আরও তিনজন শিশুর মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডার ও পরিসংখ্যানের খতিয়ান অনুযায়ী, চলতি বছরের গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে আজ ৭ জুন পর্যন্ত সামগ্রিক হাম পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই ৩ মাসেরও কম সময়ে দেশে হামের বিভিন্ন তীব্র উপসর্গ (যেমন- প্রচণ্ড জ্বর, শরীরে লালচে র্যাশ, নিউমোনিয়া বা শ্বাসকষ্ট) নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোট ৫২৯ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরি টেস্ট বা রক্তের নমুনায় শতভাগ ‘নিশ্চিত হাম’ (Confirmed Measles) হওয়ার পর মারা গেছে ৯১ জন শিশু।
বুলেটিনে আরও বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের বহির্বিভাগ এবং জরুরি বিভাগে আরও ১ হাজার ২২১ জন নতুন রোগীর শরীরে হামের প্রাথমিক লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে। এই নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৯ হাজার ১২ জনে।
এই বিশাল সংখ্যক রোগীর মধ্যে উন্নত ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে মোট ৯ হাজার ৬৮৬ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের সংক্রমণ বা ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এছাড়া গত ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে মোট ৬৮ হাজার ২৬৩ জন শিশু ও রোগী ভর্তি হয়েছেন। আশার কথা হলো, এর মধ্যে উন্নত চিকিৎসা ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়ে বাড়ি ফিরে গেছে ৬০ হাজার ৮৪ জন শিশু। তবে এখনো দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাজার হাজার শিশু এই রোগের জটিলতার সাথে লড়াই করছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মা-বাবাদের সচেতন হওয়ার এবং শিশুদের দ্রুত হামের প্রতিষেধক বা এমআর (MR) টিকা সুনিশ্চিত করার জোর তাগিদ দিয়েছেন।
জান্নাত সকালবেলা
|