অষ্টগ্রামে কৃষকরা পেলেন সরকারি সহায়তা
নূর আহাম্মদ পলাশ, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: ভাটি অঞ্চলে অতি বৃষ্টিপাত ও আগাম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার সরকারি ঘোষণা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলায় ৬ হাজার ৪০০ কৃষকের মাঝে নগদ অর্থ ও খাদ্যশস্য বিতরণ করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার (৯ জুন) উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ত্রাণ ও অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে আকস্মিক ও আগাম বন্যার কারণে অষ্টগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকার পাকা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যায়। এতে হাওরের হাজার হাজার কৃষক তাদের কষ্টার্জিত ফসল সম্পূর্ণভাবে ঘরে তুলতে না পেরে চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের এই জরুরি দুর্ভোগ লাঘবে সরকারের বিশেষ তহবিল থেকে মে ও জুন— এই দুই মাসের একত্রে ৬ হাজার টাকা করে নগদ আর্থিক সহায়তা এবং মাথাপিছু ৩০ কেজি করে চাল প্রদান করা হয়। আকস্মিক দুর্যোগের পর সরকারের এই তাৎক্ষণিক খাদ্য ও অর্থ সহায়তা পেয়ে স্থানীয় সাধারণ কৃষকরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
সরকারি এই মানবিক সহায়তা পেয়ে কৃষকরা সন্তোষ প্রকাশ করে সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেও বিতরণ প্রক্রিয়ার তালিকা নিয়ে কিছু মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কয়েকজন স্থানীয় কৃষকের অভিযোগ, মাঠ পর্যায়ে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত নন বা কৃষিকাজের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নন— এমন কিছু অযোগ্য ব্যক্তির নামও রাজনৈতিক বা স্থানীয় প্রভাবে এই সরকারি সহায়তার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অষ্টগ্রাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অভিজিৎ সরকার বলেন, “আমরা অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে তালিকা প্রণয়নের চেষ্টা করেছি। এরপরও যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে কোনো অক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা অযোগ্য ব্যক্তি তালিকায় অন্যায়ভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন, তাহলে তাদের নাম বাদ দিয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের শতভাগ অধিকার নিশ্চিত করতে আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি।”
হাওরাঞ্চলের সচেতন মহল ও স্থানীয় কৃষকদের প্রত্যাশা, সরকারি সহায়তা বিতরণে পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিতের পাশাপাশি ভবিষ্যতে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঠিকভাবে ডাটাবেজের মাধ্যমে চিহ্নিত করে রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা পৌঁছে দেওয়া হবে।
এআইএল/সকালবেলা
|