সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজে কমপ্লিট শাটডাউনের আল্টিমেটাম
খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: চিকিৎসকদের পেশাগত মর্যাদা রক্ষা, বৈষম্য দূরীকরণ এবং ইন্টার্ন ও ট্রেইনি চিকিৎসকদের ভাতা বৃদ্ধিসহ ৬ দফা দাবিতে সারা দেশের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে সুনামগঞ্জে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছেন সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে দাবি আদায়ে প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন তাঁরা। এই সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে আগামী কাল ৯ জুন (মঙ্গলবার) থেকে মেডিকেল কলেজে অনির্দিষ্টকালের জন্য ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার (৮ জুন) সকাল ১১টার দিকে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মদনপুরে অবস্থিত মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সকালে কলেজের বিভিন্ন ব্যাচের শত শত শিক্ষার্থী ব্যানার-ফেস্টুন হাতে ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে এক প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাফাত রেজা আকাশ ও তোফায়েল আহমদ, দ্বিতীয় ব্যাচের মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম, প্রিয়াস চন্দ্র ও ফারজানা আহমেদ মিম, চতুর্থ ব্যাচের তানভীর হোসেন এবং ষষ্ঠ ব্যাচের শিক্ষার্থী শীর্ষেন্দু বিশ্বাসসহ আরও অনেকে।
বক্তারা বলেন, দেশের চিকিৎসক সমাজ ও চিকিৎসা শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত হচ্ছে। এর ফলে চিকিৎসা পেশার প্রতি শিক্ষার্থীদের অনীহা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যখাতের ভবিষ্যৎও চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে। চিকিৎসকদের ন্যায্য অধিকার ও কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবা ভেঙে পড়বে।
শিক্ষার্থীরা তাঁদের বক্তব্যে ৬ দফা দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে বিশেষভাবে— স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ কর্তৃক গত ১৯ মে ২০২৬ তারিখে জারিকৃত এফসিপিএস (FCPS) ট্রেনিং সংক্রান্ত বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বাতিল করে নতুন নির্দেশনা জারির দাবি জানানো হয়।
অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে— বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৪ বছর নির্ধারণ করা, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পৃথক ‘স্বাস্থ্যকর্মী নিরাপত্তা আইন’ প্রণয়ন, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে চিকিৎসকদের ওপর হামলাকারীদের বিচার নিশ্চিত করা, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মাসিক ভাতা ৩০ হাজার টাকায় এবং বেসরকারি ট্রেইনি চিকিৎসকদের ভাতা ৫০ হাজার টাকায় উন্নীত করা এবং বেসরকারি খাতে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য ন্যূনতম সুনির্দিষ্ট বেতন কাঠামো প্রণয়ন করা।
সমাবেশ থেকে শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমাদের এই আন্দোলন কোনো ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য নয়, বরং দেশের চিকিৎসাব্যবস্থা ও স্বাস্থ্য শিক্ষার মান উন্নয়নের স্বার্থে।” ঘোষণা অনুযায়ী, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আগামীকাল ৯ জুন থেকে প্রথম থেকে পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন সকাল ১১টার পর থেকে সব ধরনের ক্লাস, পরীক্ষা ও একাডেমিক কার্যক্রম বর্জন করে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করবেন।
এআইএল/সকালবেলা
|