ডুয়েট ‘শাটডাউনের’ আলটিমেটাম শিক্ষার্থীদের

প্রকাশ: সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ০৪:৫১ অপরাহ্ণ
ডুয়েট ‘শাটডাউনের’  আলটিমেটাম  শিক্ষার্থীদের

গাজীপুরের ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট)-এর সাধারণ শিক্ষার্থীরা চলমান প্রশাসনিক সংকট নিরসনে আসন্ন ঈদুল আজহার আগেই চূড়ান্ত সমাধানের আলটিমেটাম দিয়েছেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দাবি আদায় না হলে ঈদের পর পুরো ক্যাম্পাস ‘শাটডাউন’ করে দেওয়ার কঠোর ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

আজ সোমবার (১৮ মে) দুপুরে ডুয়েট ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. আমান উল্লাহ এবং হাসানুর রহমান। এ সময় ক্যাম্পাসে আন্দোলনরত বিপুল সংখ্যক সাধারণ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থী মো. আমান উল্লাহ বলেন, আমাদের শুরু থেকেই স্পষ্ট দাবি ছিল ডুয়েটে কর্মরত জ্যেষ্ঠ ও যোগ্য শিক্ষকদের মধ্য থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গঠন করা হবে। কিন্তু আমাদের সেই যৌক্তিক দাবিকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, যত ব্যবস্থাপনাই নেওয়া হোক না কেন, আমরা আমাদের অবস্থান থেকে এক চুলও সরে আসব না। বাইরে থেকে অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে এখানে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগের যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে, তা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ শিক্ষকদের মধ্য থেকেই প্রশাসন গঠন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা শুরু থেকেই ক্যাম্পাসে একটি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের চিন্তাধারা বজায় রাখার চেষ্টা করেছি। গণমাধ্যমের মাধ্যমে আমরা রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল মহল, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে আমাদের ন্যায়সংগত দাবি পৌঁছে দিতে চাই। তারা দ্রুত উদ্যোগ নিলে আমরা শান্তিপূর্ণ উপায়ে সংকট সমাধানের চেষ্টা করব। কিন্তু আমাদের দাবি উপেক্ষা করা হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

ঈদের আগে সমাধানের দাবি ও শাটডাউনের হুঁশিয়ারি: আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, ঈদের ছুটির আগেই এই সংঘাত ও প্রশাসনিক জটিলতার অবসান ঘটাতে হবে। অন্যথায় ঈদের পর পর্যন্ত এই আন্দোলন অনবরত চলবে এবং প্রয়োজন হলে পুরো ডুয়েট ক্যাম্পাস শাটডাউন করে দেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা বৈঠক হয়েছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষার্থীরা জানান, নবনিযুক্ত উপাচার্যকে তারা কোনোভাবেই মেনে নিচ্ছেন না এবং তাঁর সঙ্গে কোনো ধরনের বৈঠকও হয়নি। সাধারণ শিক্ষকদের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা হলেও তা ফলপ্রসূ বা কার্যকর কোনো সমাধান এনে দিতে পারেনি। তারা চান সরকারের দায়িত্বশীল মহল যেন সরাসরি এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে।

হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে শিক্ষার্থী হাসানুর রহমান অভিযোগ করেন, আমাদের ওপর অনাকাঙ্ক্ষিত হামলায় ছাত্রদলের সংশ্লিষ্ট কয়েকজন এবং বহিরাগত টোকাইরা জড়িত ছিল। তাদের অনেককে আমরা ইতিমধ্যে শনাক্ত করেছি। প্রকাশ্য দিবালোকে রামদা হাতে নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, সাম্প্রতিক সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে কয়েকজনের মাথায় ও শরীরে গুরুতর আঘাত লেগেছে এবং অনেকের শরীরে একাধিক সেলাই দিতে হয়েছে। আহতদের মধ্যে কেউ গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন, কেউ বাসায় এবং কেউ ক্যাম্পাসে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে অবস্থান করছেন। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সামনে আহত শিক্ষার্থীদের ছবি সম্বলিত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করা হয়।

ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবির বা অন্য কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পুরোপুরি নাকচ করে শিক্ষার্থীরা বলেন, এটি কোনো বিশেষ রাজনৈতিক সংগঠনের এজেন্ডা বাস্তবায়নের আন্দোলন নয়। এখানে যারা রাজপথে আছে তারা সবাই ডুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থী। তারা বিশ্ববিদ্যালয়কে ভালোবাসে বলেই অধিকার আদায়ে নেমেছে। একটি পক্ষ ছাত্রদল, ছাত্রশিবির বা অন্য কোনো ব্যানার ও ট্যাগের নামে এই আন্দোলনকে ভিন্নখাতে নেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

শিক্ষার্থীরা আরও মনে করিয়ে দেন, গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর সাধারণ শিক্ষার্থীদের সর্বসম্মত ঐকমত্যের ভিত্তিতে ডুয়েটকে পুরোপুরি ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাস ঘোষণা করা হয়েছে। এরপরও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ক্যাম্পাসে নিজেদের রাজনৈতিক কার্যক্রম ও আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে, যা সাধারণ শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকেই ডুয়েট ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বাড়ত থাকে। গত কয়েকদিন ধরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, অবস্থান কর্মসূচি ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি ক্রমেই অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। এর ওপর সাম্প্রতিক সংঘর্ষে একাধিক শিক্ষার্থী মারাত্মক আহত হওয়ার পর সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ আরও চরম আকার ধারণ করেছে। দ্রুত সমাধান না এলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশ পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন