আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে গত মাসে কার্যকর হওয়া একটি নাজুক যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইরানকে উদ্দেশ করে এক চরম রহস্যময় ও উস্কানিমূলক বার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বড় ধরনের যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘনীভূত হওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘এটি ছিল ঝড়ের আগের শান্ত পরিবেশ।’ ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) দিয়ে তৈরি একটি প্রতীকী ছবি শেয়ার করেন। সেখানে দেখা যায়, তিনি তাঁর বিখ্যাত ‘মেইক আমেরিকা গ্রেট অ্যানাদার টাইম’ লেখা লাল টুপি পরে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে দাঁড়িয়ে আছেন এবং পাশে মার্কিন নৌবাহিনীর একজন অ্যাডমিরাল রয়েছেন। উত্তাল সমুদ্র, আকাশজুড়ে ঘন মেঘ আর বজ্রপাত এবং কিছুটা দূরে একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজ—সব মিলিয়ে ছবিটি ছিল একটি আসন্ন যুদ্ধের পূর্বাভাসের মতো। এই ছবির ক্যাপশনেই ট্রাম্প লেখেন, ‘এটি ছিল ঝড়ের আগের শান্ত পরিবেশ।’
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ সামরিক ও নীতি-নির্ধারকেরা ইতোমধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে আবারও বিমান হামলা শুরুর পরিকল্পনা নিয়ে গুরুত্বের সাথে আলোচনা করছেন। কূটনৈতিক অচলাবস্থা ভাঙতে ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত সরাসরি সামরিক পথ বেছে নেবে কি না, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
সম্প্রতি ফরাসি সংবাদমাধ্যম বিএফএমটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, "শিগগিরই যদি কোনো শান্তিচুক্তি না হয়, তবে ইরানের জন্য সামনে খুব খারাপ সময় অপেক্ষা করছে। তাদের জন্য সমঝোতায় পৌঁছানোই এখন সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে।"
এদিকে ট্রাম্পের এই বার্তার পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন করে আলোচনার একটি বার্তা তেহরান পেয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের আসল উদ্দেশ্য ও সততা নিয়ে এখনো ইরানের মধ্যে গভীর অবিশ্বাস ও সংশয় রয়েছে।
মূলত বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক অর্থনৈতিক রুট ‘হরমুজ প্রণালি’র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই নতুন সংঘাতের সূত্রপাত। বিশ্ববাজারের প্রায় ২০ শতাংশ খনিজ তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। বেইজিং সফর শেষে সাংবাদিকদের ট্রাম্প দাবি করেছেন, "হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখন সম্পূর্ণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এবং মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে গত আড়াই সপ্তাহে ইরানের প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি ডলারের বিশাল আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।"
অন্যদিকে ইরানও দমে যাওয়ার পাত্র নয়। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তেহরানের দেওয়া ১৪ দফা শান্তি প্রস্তাব মেনে নেওয়া ছাড়া পশ্চিমাদের সামনে অন্য কোনো পথ খোলা নেই। একই সাথে ইরান এই রুটে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’–এর সাথে যুক্ত পশ্চিমা অপারেটরদের জাহাজ চলাচল নিষিদ্ধ করে নতুন শুল্ক বা টোল আদায়ের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও বেশি জটিল করে তুলেছে।