মো. মোক্তার হোসেন, সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মো. নুরুদ্দিন হাওলাদার (৩২) নামে এক ঠিকাদারকে দিবালোকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শনিবার (১৬ মে) সন্ধ্যার দিকে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মোসা. মাইমুনা আক্তার বাদী হয়ে সোনারগাঁও থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের মেঘনা নিউটাউন আবাসিক প্রকল্পের গঙ্গানগর এলাকায় ঠিকাদার নুরুদ্দিন হাওলাদার তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। গত দেড় বছর আগে একই এলাকার আব্দুর রউফের একটি বিল্ডিং নির্মাণের ঠিকাদারি কাজ সম্পন্ন করেন তিনি। মূলত সেই কাজের পর নতুন আরেকটি কাজের আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলের দিকে নুরুদ্দিনের ভাড়া বাসার সামনে এসে নবনির্মিত বিল্ডিংয়ের মালিক আব্দুর রউফ, তাঁর ছেলে মেহেদী হাসান শুভ (২২) ও জাহিদ (২৮) সহ আরও কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি নুরুদ্দিনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। নুরুদ্দিন এর তীব্র প্রতিবাদ করলে প্রতিপক্ষরা দেশীয় তৈরি ধারালো অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাঁর ওপর আকস্মিক হামলা চালায়। উপর্যুপরি হামলা চলাকালে নিহতের বুকের ডানপাশে ধারালো ছুরিকাঘাত করা হয়, এতে তাঁর শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। স্থানীয় লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে উদ্ধার করে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
সোনারগাঁও থানা পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। নিহতের স্ত্রীর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত আব্দুর রউফ ও তাঁর ছেলেরা পলাতক থাকায়, তাঁদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে পুলিশের বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে।
এ.আই.এল/সকালবেলা