আমাদের প্রিয় ছায়াপথ মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির শেষ সীমানা কোথায়, তা নিয়ে দীর্ঘদিনের রহস্যের জট এবার খুলেছে। ইউনিভার্সিটি অব মাল্টার একদল বিজ্ঞানী দাবি করেছেন যে, গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে প্রায় ৪০ হাজার আলোকবর্ষ
দূরত্বের মধ্যেই এর প্রধান সীমানা অবস্থিত। অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিকস সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে।
গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে যত দূরে যাওয়া যায়, এর ঘনত্ব ততই কমতে থাকে। ফলে এর শেষ সীমানা খুঁজে পাওয়া বিজ্ঞানীদের জন্য ছিল এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। মাল্টার বিজ্ঞানীরা প্রায় এক লাখ বিশালাকার নক্ষত্রের বয়স বিশ্লেষণ করে দেখেছেন যে, গ্যালাক্সির সেই অঞ্চলটিকেই সীমানা বলা যেতে পারে যেখানে নতুন নক্ষত্র তৈরির প্রক্রিয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, গ্যালাক্সির কেন্দ্রের কাছাকাছি অবস্থিত নক্ষত্রগুলো সবচেয়ে প্রাচীন। কেন্দ্রের ব্ল্যাক হোলের কাছাকাছি গ্যাস ও ধূলিকণা বেশি থাকায় সেখানে খুব দ্রুত নক্ষত্র গঠন হয়েছিল। কেন্দ্রের বাইরে গ্যাস ও ধূলিকণা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকায় নক্ষত্র গঠিত হতে সময় বেশি নিয়েছে, ফলে সেই অঞ্চলের নক্ষত্রগুলো তুলনামূলক তরুণ। তবে ৪০ হাজার আলোকবর্ষ দূরত্বের পর আবারও পুরোনো নক্ষত্র দেখা যায়, যা মূলত ভেতর থেকে ছিটকে আসা 'পরিযায়ী নক্ষত্র'।
বিজ্ঞানীদের মতে, ৪০ হাজার আলোকবর্ষ দূরত্বের পর গ্যাসের ঘনত্ব এতই কমে যায় যে তা নতুন নক্ষত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় পিণ্ড তৈরি করতে পারে না। এছাড়া 'আউটার লিন্ডব্লাড রেজোন্যান্স' নামক একটি প্রক্রিয়া গ্যাসকে গ্যালাক্সির ভেতরেই আটকে রাখে। এই সীমানার পর গ্যালাকটিক সমতল কিছুটা বাঁকা হয়ে যায়, যা গ্যাসকে ছড়িয়ে দেয় এবং নক্ষত্র গঠন প্রক্রিয়া থামিয়ে দেয়।
জান্নাত/সকালবেলা