তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক: ভয়েস সহকারী 'সিরি'-তে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ফিচার সময়মতো যুক্ত না করার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলা ২৫০ মিলিয়ন ডলারে সমঝোতা করেছে অ্যাপল। তবে এই বিশাল অঙ্কের অর্থ দিলেও কোনো ধরনের দায় বা ভুল স্বীকার করেনি বিশ্বখ্যাত এই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি।
২০২৪ সালে অ্যাপলের বার্ষিক ডেভেলপার সম্মেলনে ঘোষণা করা হয়েছিল যে, নতুন আইফোনের সঙ্গে সিরিতে একাধিক উন্নত এআই ফিচার যুক্ত করা হবে। কিন্তু বাস্তবে আইফোন বাজারে আসার পর দেখা যায়, সেই ফিচারগুলো অনুপস্থিত। এতে বিনিয়োগকারীরা বিভ্রান্ত হয়েছেন এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ তুলে ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল আদালতে মামলা করেন শেয়ারহোল্ডার পিটার ল্যান্ডশেফট।
মিথ্যা প্রচারণা: এআই ফিচারের ঘোষণা দিয়ে আইফোন বিক্রির প্রচারণা চালানো হলেও বাস্তবে তা কার্যকর করা হয়নি।
বিলম্বিত কার্যক্রম: ২০২৫ সালে অ্যাপল জানায় যে, সিরির সেই আপগ্রেডগুলো ২০২৬ সালের আগে আসবে না।
বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি: ঘোষণার সঙ্গে বাস্তবায়নের অমিল অ্যাপলের শেয়ার বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।
অ্যাপল জানিয়েছে, তারা কোনো আইনি জটিলতা দীর্ঘায়িত করতে চায় না বলেই এই সমঝোতায় পৌঁছেছে। তাদের মূল মনোযোগ এখন উদ্ভাবন ও নতুন প্রযুক্তি উন্নয়নে। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, তাদের ‘অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স’ উদ্যোগের আওতায় ইতিমধ্যে অনেক ফিচার উন্মুক্ত করা হয়েছে এবং সিরির বাকি ফিচারগুলো আগামী মাসের ডেভেলপার সম্মেলনে উন্মোচন করা হবে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে এআই নিয়ে বড় কোম্পানিগুলোর প্রতিটি ঘোষণা বিনিয়োগকারীদের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। সময়মতো প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হলে কোম্পানিগুলোকে শুধু আইনি জটিলতা নয়, বরং আস্থার সংকটেও পড়তে হতে পারে।
জান্নাত/সকালবেলা