মেজেন্ডা (MAGENDA) প্রকল্পের আওতায় গ্রিসের ইউনিভার্সিটি অব পেলোপোনিজে আয়োজিত স্টাডি ভিজিট ও প্রজেক্ট মিটিংয়ে অংশগ্রহণ আমার পেশাগত জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ২৬ এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচি আমাকে যেমন জ্ঞানসমৃদ্ধ করেছে, তেমনি দিয়েছে গ্রিসের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হওয়ার এক অনন্য সুযোগ।
সফরের প্রথম তিন দিন (২৬-২৮ এপ্রিল) স্টাডি ভিজিটের মাধ্যমে জেন্ডার সমতা, শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি নির্ধারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে আগত গবেষকদের সাথে মতবিনিময়ের মাধ্যমে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়। বিশেষ করে নারী-পুরুষ সমতা যে টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি—এই উপলব্ধিটি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
২৯ ও ৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত প্রজেক্ট মিটিংয়ে প্রকল্পের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। দলগত কাজের গুরুত্ব এবং টিমের সদস্যদের দায়িত্ববোধ আমাকে মুগ্ধ করেছে। সম্মিলিত এই প্রচেষ্টাই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের মূল শক্তি বলে আমি বিশ্বাস করি।
অফিসিয়াল কার্যক্রমের বাইরে সক্রেটিস, প্লেটো এবং অ্যারিস্টটলের পুণ্যভূমি গ্রিসের ঐতিহাসিক স্থাপত্য ও জাদুঘর পরিদর্শন আমার সফরকে পূর্ণতা দিয়েছে। প্রাচীন গ্রিক সভ্যতার নান্দনিকতা এবং স্থাপত্যশৈলী সত্যিই বিস্ময়কর। গ্রিসের নীল আকাশ আর সমুদ্রের স্বচ্ছ জলরাশির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মানসিক প্রশান্তি এনে দেওয়ার মতো।
এই সফরটি কেবল একটি দাপ্তরিক ভ্রমণ ছিল না, বরং ছিল শেখার এবং নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কারের সুযোগ। বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে মেলামেশা আমাকে একটি বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরিতে সাহায্য করেছে। এই সফরের অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে আমার পেশাগত জীবনে এবং প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়ক হবে।
জান্নাত/সকালবেলা