শাহ মোঃ জহরুল ইসলাম
বাংলাদেশে দ্রুত বাড়ছে মাটি দূষণ, যা দেশের কৃষি উৎপাদন, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য এক বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনিয়ন্ত্রিত শিল্পবর্জ্য, অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার এবং অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ফলে মাটির গুণগত মান দিন দিন অবনতি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে প্রায় ৩০ হাজার শিল্পকারখানা বিভিন্ন রাসায়নিক ব্যবহার করছে, যার বড় অংশই অপরিশোধিত অবস্থায় পরিবেশে নির্গত হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা, গাজীপুর, চট্টগ্রাম ও সাভারে ট্যানারি ও টেক্সটাইল বর্জ্যের কারণে মাটিতে সিসা, ক্রোমিয়াম ও পারদের মতো বিষাক্ত ভারী ধাতু জমা হচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, সাভারের ট্যানারি এলাকায় মাটির ‘Pollution Load Index’ (PLI) ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া প্রতি বছর প্রায় ২.৭ মিলিয়ন মেট্রিক টন ই-বর্জ্য এবং বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য মাটির স্বাভাবিক পানি ধারণ ক্ষমতা ও উর্বরতা নষ্ট করছে।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, পরিবেশ দূষণের কারণে বাংলাদেশে জিডিপির প্রায় ১৭.৬% সমপরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। ২০১৯ সালে বায়ু, পানি ও মাটি দূষণের সম্মিলিত প্রভাবে দেশে ২ লাখ ৭২ হাজারের বেশি মানুষের অকালমৃত্যু হয়েছে। খাদ্যের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করা ভারী ধাতু ক্যান্সার, কিডনি ও স্নায়ুরোগের ঝুঁকি কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের (SRDI) মতে, দেশের অনেক অঞ্চলে মাটির উর্বরতা ইতোমধ্যে হ্রাস পেয়েছে। মাটির উর্বরতা কমে যাওয়ায় ফসল উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে এবং অনেক জমি চাষের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। ইউএনইপি (UNEP) সতর্ক করে বলেছে, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে মাটি দূষণ খাদ্য নিরাপত্তার জন্য চরম সংকট তৈরি করবে।
বিশেষজ্ঞরা মাটি দূষণ রোধে শিল্পবর্জ্য পরিশোধন বাধ্যতামূলক করা, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো এবং টেকসই কৃষি পদ্ধতি অনুসরণ করার ওপর জোর দিয়েছেন। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এই সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
লেখক: শাহ মোঃ জহরুল ইসলাম
শিক্ষার্থী, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ