জেলা প্রতিনিধি: যশোরের দিগন্ত জোড়া ফসলের মাঠে এখন সোনালি ধানের সমারোহ। সবুজ বর্ণ পেরিয়ে ধান সোনালি বর্ণ ধারণ করেছে অনেক আগেই। কথা ছিল এই সময়ে কৃষকের ঘর ভরে উঠবে নতুন ধানের ঘ্রাণে। কিন্তু আবহাওয়া আর শ্রমিক সংকটের যাঁতাকলে পড়ে সেই স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে রূপ নিতে শুরু করেছে।
যশোরের সদর, ঝিকরগাছা, অভয়নগর ও কেশবপুরসহ প্রতিটি উপজেলায় এখন একই চিত্র। আকাশে মেঘের আনাগোনা আর যখন-তখন বৃষ্টির পূর্বাভাসে মাঠের পাকা ধান নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে কৃষকদের।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এ বছর যশোরে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। মাঠের অধিকাংশ ধান কাটার উপযুক্ত হলেও বৃষ্টির আশঙ্কায় কৃষকরা ধান কাটতে দেরি করছেন। ঝিকরগাছার কৃষক প্রভাত কুমার জানান, "বৃষ্টির ভয়ে ধান কাটতে পারছি না। তার ওপর রয়েছে তীব্র শ্রমিক সংকট। এখন কাটলে যদি বৃষ্টি হয়, তবে ধান শুকাতে না পেরে সব পচে যাবে।"
যশোরের অনেক জায়গায় শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ১,০০০ থেকে ১,৬০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। উৎপাদন খরচ বাড়লেও ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার আশঙ্কায় চাষিদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
শনিবার অভয়নগরে হঠাৎ এক ঘণ্টার ভারি বৃষ্টিতে কোটা, বাগদাহসহ বিভিন্ন মাঠে কেটে রাখা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। ভিজে যাওয়া ধান বাঁচাতে পরিবারের নারী-পুরুষ সবাই মিলে এখন জানপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন।
ঝিকরগাছার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আইয়ুব হোসেন জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও এক সপ্তাহ লাগতে পারে। তাই যাদের ধান পুরোপুরি পেকে গেছে, তাদের দ্রুত কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া পানিতে পড়ে যাওয়া ধানে ছত্রাকনাশক স্প্রে করার কথাও বলা হচ্ছে।
যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোশাররফ হোসেন বলেন, “জেলায় ইতোমধ্যে ৪০ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে। আমরা মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এবং মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দিচ্ছি। আবহাওয়া দুই-একদিন অনুকূলে থাকলে ৭০ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়ে যাবে।”
বৈরী আবহাওয়া আর চড়া মজুরির এই প্রতিকূল সময়ে বিনিয়োগকৃত টাকা কতটুকু ঘরে আসবে, তা নিয়েই এখন বড় দুশ্চিন্তায় যশোরের হাজারো কৃষক পরিবার।