নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের প্রতিটি উপজেলায় আধুনিক ও বহুমুখী ব্যবহারের উপযোগী ‘মাল্টিপারপাস এক্সামিনেশন হল’ নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। রোববার (৩ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে চলমান জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সেশন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “ডিসি সম্মেলনে জেলা প্রশাসকরা মাঠ পর্যায়ে শিক্ষার বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে অনেক উপজেলায় পর্যাপ্ত খেলার মাঠ এবং বড় পরীক্ষা কেন্দ্র বা হল নেই বলে তারা জানিয়েছেন। আমরা ইতোমধ্যে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মাল্টিপারপাস এক্সামিনেশন হল নির্মাণের প্রকল্প হাতে নিয়েছি। এতে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের আবাসন ও পরীক্ষা সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান হবে।”
জেলা প্রশাসকরা শিক্ষার্থীদের স্কুলবিমুখতা কাটাতে স্কুলগুলোতে আনন্দঘন পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “শিক্ষার্থীরা এখন আর গতানুগতিক পরিবেশে থাকতে চায় না, তারা আনন্দঘন স্কুল চায়। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তাঁর এজেন্ডার মধ্যেই রেখেছেন ‘লার্নিং উইথ জয়’। আমরা কারিকুলামে সেই পরিবর্তন আনছি যাতে লেখাপড়া শিশুদের কাছে বোঝা মনে না হয়।”
সম্মেলনে ডিসিরা স্কুলগুলোতে ‘মিড-ডে মিল’ বা দুপুরের খাবার চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন। শিক্ষামন্ত্রী জানান, এটি সরকারের অগ্রাধিকার তালিকার মধ্যে রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের (হানিমুন পিরিয়ড) মধ্যে ৪৬টি প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, যার মধ্যে ২৯টি প্রকল্প সরাসরি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এই প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।
ডিসিদের প্রস্তাবগুলোর প্রশংসা করে এহছানুল হক মিলন বলেন, “ওঁদের প্রতিটি প্রস্তাব অত্যন্ত চমৎকার। বিগত দিনেও এই ডিসিরা ছিলেন এবং তাঁরা তখনও অনেক প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু তখন সেগুলো বাস্তবায়ন হয়নি কারণ কেউ সেগুলোকে গুরুত্ব দেয়নি (No body addressed it)। আমাদের প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব পাওয়ার আগেই এই বিষয়গুলোকে তাঁর নির্বাচনী এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন, তাই এখন আমরা সহজেই কাজগুলো করতে পারছি।”
শিক্ষামন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের আশ্বস্ত করেন যে, মাঠ পর্যায়ের প্রতিটি যৌক্তিক প্রস্তাব সরকার গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করবে এবং প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহযোগিতা প্রদান করবে। এ সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।