নিজস্ব প্রতিবেদক: জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে। আজ রোববার (৩ মে ২০২৬) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হলো। আদালত আগামী ১৩ মে এই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন।
২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। তদন্ত শেষে গত বছরের ৩০ নভেম্বর বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়।
এর আগে গত ৮ মার্চ সিনিয়র বিশেষ জজ আদালত অভিযোগপত্রটি আমলে নেন। আসামি বেনজীর আহমেদ পলাতক থাকায় ওই দিনই তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। বর্তমানে মামলাটি বিচারের জন্য বিশেষ জজ আদালত-৫ এ স্থানান্তরিত হয়েছে।
দুদকের তদন্তে তাঁর নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ টাকার স্থাবর এবং ৮ কোটি ১৫ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদসহ মোট ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁর বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে পাওয়া গেছে ৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। যাবতীয় ব্যয় বাদে তাঁর নিট সঞ্চয় হওয়ার কথা ছিল ৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। ফলে তিনি ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন বলে প্রমাণিত হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বেনজীর আহমেদ অবৈধ অর্থের উৎস গোপন করার লক্ষ্যে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও যৌথ মূলধনী প্রতিষ্ঠানে অর্থ স্থানান্তর ও রূপান্তর করেছেন, যা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে অপরাধ।
সাবেক এই শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিচার শুরু হওয়ায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম বা সাক্ষ্যগ্রহণ ১৩ মে শুরু হবে।