মেসিই আর্জেন্টিনাকে শেষ ষোলোয় নিয়ে যাবেন: পিটার বাটলার
স্পোর্টস ডেস্ক: চলতি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের প্রতিটি ম্যাচই যে কতটা কঠিন ও অনিশ্চয়তায় ভরা, তার প্রমাণ ফুটবলবিশ্ব ইতিমধ্যেই পেতে শুরু করেছে। গ্রুপ পর্বের সমীকরণকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে ইতিমধ্যেই বিদায় নিয়েছে জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের মতো শক্তিশালী দল। এমনকি পরাশক্তি ইংল্যান্ড ও ব্রাজিলকেও শেষ ষোলোর টিকিট কাটতে ঘাম ঝরাতে হয়েছে মাঠের শেষ মিনিট পর্যন্ত। নকআউট পর্বে গ্রুপ পর্বের কোনো হিসাব-নিকাশের মূল্য থাকে না; এখানে একটি মাত্র ছোট ভুল কিংবা একজন বিশেষ খেলোয়াড়ের জাদুকরী মুহূর্তই পুরো ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। আর এই কারণেই বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা যতই শক্তিশালী হোক না কেন, কেপ ভার্দের বিপক্ষে তাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে বলে সতর্ক করেছেন প্রখ্যাত ফুটবল বিশ্লেষক পিটার বাটলার।
আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) এক বিশেষ কলামে কেপ ভার্দে বনাম আর্জেন্টিনার মধ্যকার নকআউট ম্যাচটি নিয়ে নিজের চুলচেরা বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন বাটলার। তাঁর মতে, গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত খেলে আসা কেপ ভার্দে ফুটবলপ্রেমীদের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। তারা হয়তো বড় বড় তারকাসমৃদ্ধ দল নয়, কিন্তু মাঠের খেলায় দারুণ সুসংগঠিত। নিজেদের সীমাবদ্ধতা ও শক্তির জায়গাগুলো তারা খুব ভালো করেই জানে এবং কোনো প্রতিপক্ষকেই ভয় পায় না। গ্রুপ পর্বে স্পেন ও উরুগুয়ের মতো বিশ্বমানের দলগুলোর বিপক্ষে যেভাবে তারা চোখে চোখ রেখে লড়েছে, তাতেই প্রমাণিত হয় যে কেপ ভার্দে শুধু বিশ্বকাপে অংশ নিতে আসেনি, তারা এসেছে নতুন ইতিহাস লিখতে।
তবে কেপ ভার্দে শক্তিশালী হলেও আর্জেন্টিনা সম্পূর্ণ ভিন্ন ধাঁচের ও কঠিন এক প্রতিপক্ষ। বাটলারের মতে, আলবিসেলেস্তেদের মূল শক্তি শুধু লিওনেল মেসি একাই নন, বরং পুরো দলের বোঝাপড়া এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখার ক্ষমতা। কখন আক্রমণের গতি বাড়াতে হবে, কখন বল পজেশন ধরে রেখে প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করতে হবে—এসব তারা অসাধারণ দক্ষতায় নিয়ন্ত্রণ করে। নকআউট পর্বের মতো বড় মঞ্চে এই পরিণত মানসিকতাই গড়ে দেয় মূল পার্থক্য।
স্বাভাবিকভাবেই এই ম্যাচেও সবার স্পটলাইট থাকবে মহাতারকা লিওনেল মেসির ওপর। মেসির বর্তমান বয়স নিয়ে কথা উঠলেও বাটলার মনে করিয়ে দেন, বয়স বাড়লেও মেসির ফুটবল মস্তিষ্কের তীক্ষ্ণতা ও ধার একটুও কমেনি। তিনি হয়তো আগের মতো মাঠজুড়ে টানা ৯০ মিনিট দৌড়ে বেড়ান না, কিন্তু কখন কোথায় অবস্থান নিতে হবে, কোন পাসটি দিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণ চূর্ণ করতে হবে কিংবা কোন মুহূর্তে গোল করতে হবে—তাতে তিনি এখনও বিশ্বের সেরা।
বাটলারের অনুমান, কেপ ভার্দে হয়তো শুরু থেকেই নিজেদের ডি-বক্সের সামনে নিচু ব্লকে (Low Block) রক্ষণ সাজিয়ে খেলবে। তারা ম্যাচের গতি কমিয়ে এনে আর্জেন্টিনাকে হতাশ করার কৌশল বেছে নেবে। স্কোরলাইন যতক্ষণ গোলশূন্য সমতায় থাকবে, কেপ ভার্দের আত্মবিশ্বাস তত বাড়বে। কিন্তু আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সবচেয়ে বড় বিপদ হলো, মাত্র এক মুহূর্তের মনোযোগের ঘাটতিও ম্যাচের ফল বদলে দিতে পারে।
তাই আর্জেন্টিনার জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে ধৈর্য ধরে খেলা। অযথা তাড়াহুড়ো না করে যদি তারা নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখতে পারে, তবে সুযোগ অবশ্যই আসবে। বাটলার বলেন, “আমি কেপ ভার্দেকে মোটেও অবমূল্যায়ন করছি না। আমার বিশ্বাস, তারা আর্জেন্টিনাকে কঠিন লড়াই ছুড়ে দেবে। কিন্তু নকআউট পর্বে স্কোয়াডের গভীরতা ও চাপের মুখে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিজ্ঞতা বড় ভূমিকা রাখে, যেখানে আর্জেন্টিনা অনেক এগিয়ে।”
বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব এমন এক মঞ্চ, যেখানে কিংবদন্তিরা নিজেদের নতুন করে প্রমাণ করেন। আর তাই এই শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচেও আর্জেন্টিনার ভাগ্য গড়ে দেওয়ার সবচেয়ে বড় কারিগর লিওনেল মেসিই হবেন বলে শতভাগ নিশ্চিত পিটার বাটলার। মেসির অনন্য সৃজনশীলতা, নেতৃত্ব এবং বড় ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার সহজাত ক্ষমতাই শেষ পর্যন্ত কেপ ভার্দের রক্ষণব্যূহ ভেঙে আর্জেন্টিনাকে শেষ ষোলোর কাঙ্ক্ষিত টিকিট এনে দেবে।
|