বিচ্ছেদের পর সুজানকে ৪০০ কোটি রুপি দেওয়ার গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুললেন বোন ফারাহ
বিনোদন ডেস্ক: বলিউডের ইতিহাসের অন্যতম ব্যয়বহুল ও আলোচিত ডিভোর্স বা বিচ্ছেদ নিয়ে দীর্ঘ এক দশক ধরে একটি মুখরোচক গুঞ্জন চর্তুদিকে ডালপালা মেলেছিল। গুঞ্জনটি ছিল—২০১৪ সালে বিচ্ছেদের সময় হৃতিক রোশনের কাছ থেকে খোরপোশ বা ক্ষতিপূরণ হিসেবে নাকি ৪০০ কোটি রুপি দাবি করেছিলেন তাঁর সাবেক স্ত্রী সুজান খান, এবং হৃতিক সেই বিপুল অঙ্কের অর্থ সুজানকে বুঝিয়েও দিয়েছিলেন। দীর্ঘদিনের সেই বহুল চর্চিত ও বিতর্কিত গুঞ্জনকে এবার পুরোপুরি ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন সুজানের আপন বড় বোন তথা ভারতের খ্যাতনামা গয়না ডিজাইনার ফারাহ খান আলী।
সম্প্রতি প্রখ্যাত সাংবাদিক ভিকি লালওয়ানির অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া একটি এক্সক্লুসিভ ও বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে ফারাহ খান স্পষ্ট করে জানান, ৪০০ কোটি রুপির খোরপোশের যে খবর অনলাইনে বা বিভিন্ন মাধ্যমে চাউর রয়েছে, তা সম্পূর্ণ বানোয়াট। তাঁর ভাষ্যমতে, হৃতিক ও সুজানের বিচ্ছেদ ছিল সম্পূর্ণ পারস্পরিক সমঝোতা ও সৌহার্দ্যের ভিত্তিতে। জীবনের সেই কঠিন ও চরম মানসিক সংকটের সময়টিও তাঁরা দুজন অত্যন্ত পরিপক্বতা এবং মর্যাদার সঙ্গে সামলেছেন।
বিচ্ছেদের সেই পুরোনো ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি স্মরণ করে ফারাহ খান আলী বলেন, ‘যখন তাঁদের আলাদা হয়ে যাওয়ার খবরটি সামনে আসে, তখন স্বাভাবিকভাবেই দুই পরিবারের সবাই সহ বলিপাড়ার অনেকেই পুরোপুরি হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন। চারদিকে সংবাদমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের অনেক হইচই এবং গুঞ্জন তৈরি হয়েছিল। তাঁদের অত্যন্ত ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মানুষ বাইরে থেকে নানা ধরনের মনগড়া মতামত ও ট্রোল করছিল। কিন্তু আমার মনে হয়, হৃতিক ও সুজান—দুজনই এই স্পর্শকাতর বিষয়টি খুব সুন্দর ও শান্তভাবে সামলেছেন। তাঁদের বিচ্ছেদটা ছিল সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।’
এরপরই বহু বছর ধরে চলে আসা ৪০০ কোটি রুপির সেই আলোচিত গুঞ্জন নিয়ে নিজের তীব্র ক্ষোভ ও স্পষ্ট অবস্থান প্রকাশ করেন ফারাহ। তিনি বলেন, ‘আমি আজ আনুষ্ঠানিকভাবে একটা সত্য কথা সবার উদ্দেশ্যে বলতে চাই—পর্দার আড়ালে কখনোই কোনো ৪০০ কোটি রুপির খোরপোশ বা আর্থিক লেনদেনের বিষয় ছিল না। এখনো যখন আমি ইন্টারনেটে বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখি মানুষ লিখছে—হৃতিক বিচ্ছেদের পর সুজানকে ৪০০ কোটি রুপি দিয়েছেন এবং সুজান সেই বিপুল টাকায় আরও বেশি ধনী ও বিলাসী হয়ে উঠেছেন, তখন পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে আমার সত্যিই ভীষণ কষ্ট লাগে। কারণ, এই খবরটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মনগড়া।’
‘
সাক্ষাৎকারে ফারাহ আরও একধাপ এগিয়ে দাবি করেন, আইনি বিচ্ছেদের সময় সুজান হৃতিকের কাছ থেকে খোরপোশ বাবদ কোনো প্রকার অর্থ বা সম্পত্তি গ্রহণই করেননি। ফারাহর ভাষায়, ‘এই গুজবটি পুরোপুরি ভিত্তিহীন। আমাদের মা ছোটবেলা থেকেই আমাদের ভাই-বোনদের একটা চমৎকার নৈতিক শিক্ষা দিয়ে বড় করেছেন—তা হলো, মানুষের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক ও সম্মান সব সময় পার্থিব সম্পদের চেয়ে অনেক বেশি বড় এবং দামি।’
ফারাহর মতে, পারিবারিক সেই সুশিক্ষা ও উচ্চ মূল্যবোধের কারণেই বিচ্ছেদের দীর্ঘ বছর পরও আজ সুজানের সঙ্গে শুধু হৃতিক একাই নন, বরং হৃতিকের বাবা বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা রাকেশ রোশন এবং মা পিঙ্কি রোশনের অত্যন্ত আন্তরিক ও পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। তাঁরা আজও সুজানকে নিজেদের মেয়ের মতোই ভালোবাসেন এবং সুজানও তাঁদের প্রতি সমান শ্রদ্ধা বজায় রেখেছেন।
‘
ফারাহ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, সুজান কখনোই নিজের দাম্পত্যের ইতি টানার বিষয়টিকে কোনো আর্থিক সুবিধা বা সুযোগ নেওয়ার হাতিয়ার হিসেবে দেখেননি। ফারাহ বলেন, ‘সুজান একটি অত্যন্ত সুপ্রতিষ্ঠিত ও সম্মানিত পরিবার থেকে এসেছেন। তিনি সব সময় নিজের আত্মমর্যাদার সঙ্গে নিজের জীবন ও ইন্টেরিয়র ডিজাইনিংয়ের ক্যারিয়ার গড়েছেন। সুজান আর হৃতিক—দুজনই ভীষণ ভদ্র ও মার্জিত মানুষ। তাঁদের দাম্পত্য টেকেনি ঠিকই, কিন্তু তাঁরা সেটিকে কখনো জনসমক্ষে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি বা সস্তা নাটকে পরিণত হতে দেননি।’
ফারাহ আরও জানান, ২০১৪ সালে যখন তাঁদের আইনি বিচ্ছেদ চূড়ান্ত হয়, তখন চারদিকের এই ৪০০ কোটি রুপির মিথ্যা ট্রোল ও প্রোপাগান্ডা দেখে তিনি বারবার সুজানকে অনুরোধ করেছিলেন গণমাধ্যমের সামনে এসে এই গুঞ্জনটি আনুষ্ঠানিকভাবে অস্বীকার করতে। কিন্তু সুজান বরাবরই লোকদেখানো প্রতিবাদে অনীহা প্রকাশ করেছিলেন। ফারাহ সেই স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘আমি তখন ওকে রেগে বলেছিলাম, “তুমি এসব নোংরা গুজবের বিরুদ্ধে কেন আইনি ব্যবস্থা বা প্রতিবাদ করছ না?” জবাবে সুজান শান্তভাবে বলেছিল—আমার সত্যটা আমি ও হৃতিক জানি। বাইরের মানুষ না জেনে কী ভাবল বা কী লিখল, তাতে আমার বিন্দুমাত্র কিছু যায়-আসে না।’ ফলে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা এই বলিউড রহস্যের আজ এক মানবিক ও সত্য অবসান ঘটল।
|