পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে ৪ গোল বাতিল, কোয়ার্টারে রোনালদোরা

প্রকাশ: শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৯ অপরাহ্ণ
পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে ৪ গোল বাতিল, কোয়ার্টারে রোনালদোরা

স্পোর্টস ডেস্ক: চলমান ২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর নকআউট পর্বে কানাডার টরন্টোর মাঠে দেখা গেল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত, নাটকীয় ও শ্বাসরুদ্ধকর এক মহালড়াই। বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো ম্যাচে সর্বোচ্চ চারটি গোল রেফারির সিদ্ধান্তে বাতিল করার নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়ার মধ্যকার এই স্নায়ুক্ষয়ী ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার তিনটি এবং পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর একটি গোল অফসাইড ও অন্যান্য নিয়মের গ্যাঁড়াকলে পড়ে বাতিল করা হয়।

টরন্টোয় অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আক্রমণাত্মক খেলে প্রথমে এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। তবে এর কিছুক্ষণ পরেই অফসাইডের কারণে তাদের আরেকটি নিশ্চিত গোল বাতিল হয়ে যায়। এই ধাক্কার রেশ কাটতে না কাটতেই পেনাল্টি পেয়ে যায় পর্তুগাল। পেনাল্টি স্পটকিকে দাঁড়িয়ে ৪১ বছর বয়সী অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো কোনো ভুল করেননি, নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে পর্তুগালকে সমতায় ফেরান।

নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষে ম্যাচটি ১-১ গোলে সমতায় থাকায় খেলার নিয়ম অনুযায়ী ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঝে যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে (৯৪ মিনিট) রাফায়েল লিয়াও-এর একটি নিখুঁত ক্রস থেকে বাতাসে লাফিয়ে উঠে দুর্দান্ত ও দর্শনীয় হেডে পর্তুগালকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তরকা ফরোয়ার্ড গনসালো রামোস।

২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কায় থাকা ক্রোয়েশিয়া গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে এবং ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে তারা একটি গোল আদায়ও করে নেয়। অতিরিক্ত সময়ের ১০৩ মিনিটের মাথায় পর্তুগালের ডি-বক্সে উড়ে আসা একটি দূরপাল্লার পাস বুক দিয়ে দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণে নেন ক্রোয়েশিয়ান মিডফিল্ডার মারিও পাসালিচ। এরপর তিনি দ্রুত বলটি বাড়িয়ে দেন সতীর্থ জোসকো গভার্দিওলের দিকে, যিনি দুর্দান্ত এক স্লাইডিং শটে পর্তুগালের জাল কাঁপান। ক্রোয়েশিয়ান শিবিরে তখন উল্লাস।

তবে এই গোলের পরেই শুরু হয় চরম নাটকীয়তা। অনফিল্ড রেফারি গোলটির বৈধতা নিশ্চিত করতে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR)-এর সাহায্য নেন। শুরুতে সাধারণ চোখে মনে হয়েছিল, পাসালিচ যখন বলটি রিসিভ করেন, তখন সেটি পর্তুগিজ ডিফেন্ডার রেনাতো ভেইগার গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে তাঁর কাছে এসেছিল, যা পাসালিচকে ‘অনসাইড’ রাখত। কিন্তু দীর্ঘ ভিএআর রিভিউ ও নিখুঁত প্রযুক্তি বিশ্লেষণে দেখা যায় সেটি অফসাইড ছিল এবং গোলটি বাতিল ঘোষণা করা হয়। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা পরবর্তীতে তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)-এ একটি পোস্টের মাধ্যমে এই সূক্ষ্ম অফসাইডের বিষয়টি স্পষ্ট করে বিবৃতি দেয়।

শেষ পর্যন্ত তীব্র লড়াইয়ের পর ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে চোখের জলে বিদায় নিতে হয়েছে লুকা মদ্রিচের ক্রোয়েশিয়াকে। অন্যদিকে, এই নাটকীয় ও ঐতিহাসিক জয়ের সুবাদে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখল পর্তুগাল। আগামী ৬ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে হাইভোল্টেজ কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে শক্তিশালী স্পেনের মুখোমুখি হবে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দল।

মন্তব্য করুন