স্ত্রীকে মাদক ব্যবসা থেকে ফেরাতে না পেরে তালাক, পরে স্বামীকে অপহরণের অভিযোগ

প্রকাশ: শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ
স্ত্রীকে মাদক ব্যবসা থেকে ফেরাতে না পেরে তালাক, পরে স্বামীকে অপহরণের অভিযোগ
আড়াইহাজার থানা

নিজস্ব প্রতিবেদক, আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ): নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে মাদক ব্যবসা থেকে স্ত্রীকে বিরত রাখতে না পেরে তালাক দেওয়ার জেরে সাবেক স্বামীকে অপহরণের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, অপহৃত স্বামীর খোঁজ নিতে গেলে তার পরিবারের সদস্যদের ওপরও হামলা চালিয়ে আহত করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যক্তির বড় ভাই মোস্তফা বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। গতকাল শুক্রবার রাতে আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের বালিয়াপাড়া গ্রামের কামালের স্ত্রী শেফালী দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি নিজের বাড়িতে বাংলা মদ তৈরি করে বিক্রি করতেন এবং স্থানীয় মাদকসেবীদের নিয়ে একটি শক্তিশালী চক্র গড়ে তুলেছিলেন। স্ত্রী শেফালীকে এই অবৈধ মাদক ব্যবসা থেকে বিরত রাখার জন্য স্বামী কামাল একাধিকবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে গত গত ২৭ সেপ্টেম্বর আইনগতভাবে আদালতের মাধ্যমে শেফালীকে তালাক দেন কামাল।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, তালাক দেওয়ার ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে গত ৩০ সেপ্টেম্বর শেফালী ও তার বেশ কয়েকজন সহযোগী মিলে একটি মাইক্রোবাসে করে বালিয়াপাড়া বাজার থেকে কামালকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যান। এরপর থেকে কামালের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।

পরে গত বৃহস্পতিবার কামালের পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পেরে শেফালীর বাড়িতে যান। এ সময় শেফালী মোবাইল ফোনে তার সহযোগীদের ডেকে আনলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয় এবং তারা কামালের পরিবারের সদস্যদের ওপর চড়াও হন। হামলায় কামালের বড় ভাই মোস্তফা, তার স্ত্রী রাহিমা ও মেয়ে শিউলী গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। বর্তমানে তারা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ বিষয়ে আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন মোবাইল ফোনে জানান, “ঘটনাটি নিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অপহৃতকে উদ্ধার এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ কাজ করছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়ে আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।”