গোপালগঞ্জে ‘বিনা তোষাপাট-১’ চাষে সাফল্য

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১২ অপরাহ্ণ
গোপালগঞ্জে ‘বিনা তোষাপাট-১’ চাষে সাফল্য

হেলাল মুন্সী, বিশেষ প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জ অঞ্চলে উচ্চফলনশীল নতুন পাটের জাত ‘বিনা তোষাপাট-১’ চাষে সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) গোপালগঞ্জ উপকেন্দ্র। উপকেন্দ্রটির বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. হারুন অর রশীদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে জাতটির চাষ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। কম সময়ে পরিপক্বতা ও তুলনামূলক বেশি ফলনের কারণে এটি স্থানীয় কৃষকদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, ‘বিনা তোষাপাট-১’ জাতের জীবনকাল মাত্র ১০০ থেকে ১০৭ দিন। এটি অন্যান্য প্রচলিত জাতের তুলনায় দ্রুত পরিপক্ব হয় এবং বিঘা প্রতি প্রায় ৪ থেকে ৫ মণ বেশি ফলন দেয়। এছাড়া দেশীয়ভাবে এই বীজ উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হলে আমদানি খরচ কমে বছরে প্রায় ১০০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।

গোপালগঞ্জের এই উপকেন্দ্রটি গোপালগঞ্জসহ মাদারীপুর, ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও শরীয়তপুর—এই পাঁচ জেলার কৃষি ও গবেষণা কার্যক্রমে সহায়তা দিয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন ফসলের উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবনসহ সরকারি বরাদ্দের মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ করে থাকে।

উল্লেখ্য, গবেষণায় বিশেষ অবদানের জন্য ২০১৬ সালে শ্রেষ্ঠ গবেষক হিসেবে ‘রাষ্ট্রপতি স্বর্ণপদক’ লাভ করেন ড. মো. হারুন অর রশীদ। তাঁর নেতৃত্বে এই জাতটির সম্প্রসারণকে স্থানীয় কৃষি খাতের বড় একটি সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে এই সাফল্যের মাঝেও উপকেন্দ্রটিতে রয়েছে মারাত্মক জনবল সংকট। পর্যাপ্ত ক্ষেত্রসহকারী ও মাঠকর্মী না থাকায় সীমিত জনবল নিয়ে গবেষণা, কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও বীজ বিতরণ কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামোগত সহায়তা বৃদ্ধি করা গেলে ‘বিনা তোষাপাট-১’ দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে দেশীয় পাট খাতকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব বলে মনে করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।

এআইএল/সকালবেলা


মন্তব্য করুন