ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
মোল্লা মো: আরিফুল ইসলাম, নাটোর: নাটোরের লালপুর উপজেলায় এক দম্পতি জীবন্ত অবস্থায় কবরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন—এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার দূড়দূড়িয়া ইউনিয়নের জয়কৃষ্ণপুর গ্রামে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাজারো উৎসুক জনতা ও ভক্তের ভিড় নামে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বিষয়টিকে ‘রটনা’ হিসেবে অভিহিত করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জয়কৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা খালেক ডাকাত ওরফে খালেক ফকির, যিনি নিজেকে ‘সিদ্ধি খালেক বাবা’ হিসেবে পরিচয় দেন, সম্প্রতি এই আধ্যাত্মিক সাধনার ঘোষণা দেন। স্থানীয়দের দাবি, অতীতে চুরি-ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকায় তিনি ‘ডাকাত খালেক’ নামে পরিচিত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি গাঁজা সেবন ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন এবং মাজার এলাকায় অনুসারীদের নিয়ে নিয়মিত আসর বসাতেন।
অভিযোগ রয়েছে, খালেক ফকির ঘোষণা দিয়েছিলেন যে আধ্যাত্মিক সাধনার অংশ হিসেবে তিনি তার প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে আড়াই দিন মাটির নিচে কবরে অবস্থান করবেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে বুধবার থেকেই মাজার এলাকায় মানুষের ঢল নামে। ভক্তদের আপ্যায়নে এক মন দুধের পায়েস ও ভূরিভোজের আয়োজন করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে ওই দম্পতির দেড় মন দুধ দিয়ে গোসল করে কাফনের কাপড় পরে নব-খননকৃত কবরে প্রবেশের কথা ছিল।
তবে লোকসমাগম বাড়তে থাকায় এবং বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে লালপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পরিকল্পনাটি ভেস্তে যায়। এ সময় ঘটনাস্থলে কোনো খননকৃত কবরের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছি। ওই ব্যক্তি নিজেকে লালন ভক্ত দাবি করছেন। তবে ধর্মীয় অনুভূতি বা আধ্যাত্মিকতার নামে যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।”
এদিকে, প্রশাসনের সময়োচিত পদক্ষেপে জনমনে স্বস্তি ফিরলেও এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে সচেতন মহলে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
এ.আই.এল/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ