ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
জাফর ইকবাল, শিবগঞ্জ (বগুড়া): পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতার আশায় ১০ বছর আগে ঘর ছেড়েছিলেন নুরনবী সরকার (৩০)। স্বপ্ন ছিল আসন্ন ঈদুল আজহার পর দেশে ফিরে নতুন করে সংসার সাজাবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে গেল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়। জীবিত নয়, নিথর দেহ হয়েই নাড়ির টানে ফিরছেন তিনি।
শুক্রবার (১৩ মার্চ ২০২৬) সাহরির সময় মালদ্বীপের দিঘুড়া আইল্যান্ডে একটি ভবনে ভয়াবহ গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটে। আগুনে দগ্ধ হয়ে সেখানে পাঁচজন বাংলাদেশি প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে একজন বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ময়দানহাটা ইউনিয়নের জামালপুর এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে নুরনবী সরকার।
শনিবার সকালে নুরনবীর গ্রামে গিয়ে দেখা যায় হৃদয়বিদারক দৃশ্য। স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। প্রিয় সন্তানকে হারানোর শোকে দিশেহারা বাবা-মা। দীর্ঘ এক দশক পর ছেলেকে কাছে পাওয়ার যে আনন্দ পরিবারের মাঝে ছিল, তা এখন বিষাদে রূপ নিয়েছে।
নিহতের বাবা আব্দুস সালাম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন:
“ছেলে আমার সংসারের কষ্ট ঘোচাতে বিদেশে গিয়েছিল। আল্লাহর রহমতে সংসারে স্বচ্ছলতাও এসেছে। কিন্তু সে ফিরছে মৃত হয়ে—এটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। আমরা এখন শুধু ওর মুখটা একবার দেখতে চাই।”
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ বা প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। নুরনবীর পরিবার ও এলাকাবাসী বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং মালদ্বীপস্থ দূতাবাসের কাছে দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
নিহত নুরনবীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো শিবগঞ্জ এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকার সচেতন মহল প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং নিহতদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদানে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ