নবীনগর সরকারি কলেজের সেই কর্মচারী বরখাস্ত

নবীনগর সরকারি কলেজের সেই কর্মচারী বরখাস্ত

সামজাদ জসি, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর সরকারি কলেজে নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষায় ফেল করা শিক্ষার্থীদের পাস করিয়ে দেওয়ার নামে ‘পাস বাণিজ্য’ ও অর্থ আদায়ের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে কলেজের একজন খণ্ডকালীন অফিস সহায়ককে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং এক নৈশপ্রহরীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

অভিযোগ উঠেছে, এইচএসসি নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে একটি চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থীদের বলা হতো, “টাকা দিলেই চূড়ান্ত পরীক্ষায় বসার ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।” এই আশ্বাসে জনপ্রতি ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ ২০২৬) নবীনগর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। একটি জাতীয় পত্রিকায় এই দুর্নীতির খবর প্রকাশের পর কলেজ প্রশাসন দ্রুত তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে কলেজের খণ্ডকালীন অফিস সহায়ক রাজীব হোসেনের সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ মেলায় তাকে তাৎক্ষণিক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া নৈশপ্রহরী শামীম মিয়ার বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ চলছে।

এই ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাজুড়ে গুঞ্জন রয়েছে যে, কেবল অফিস সহকারী বা নৈশপ্রহরী নয়, এই বড় ধরনের চক্রের পেছনে পর্দার আড়ালে আরও প্রভাবশালী কেউ জড়িত থাকতে পারে। অভিভাবকরা প্রশ্ন তুলেছেন— শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো পবিত্র স্থানেও যদি এমন ‘পাস বাণিজ্য’ চলে, তবে শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?

কলেজ প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং এই চক্রের সাথে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এন.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন