কামারখন্দে পাঁচ ডাকাত গ্রেফতার

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৪:৩৭ অপরাহ্ণ
কামারখন্দে পাঁচ ডাকাত গ্রেফতার

মো. আব্দুল কুদ্দুস, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ থানা পুলিশের অভিযানে একটি আন্তঃজেলা ডাকাত দলের পাঁচ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে বিভিন্ন এলাকায় বড় বড় ডাকাতির ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গতকাল সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে কামারখন্দ থানা থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতুর নির্দেশনায় এবং কামারখন্দ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাশমত আলীর নেতৃত্বে গত ১৪ জুন রাত ১টা থেকে পরদিন বিকেল ৪টা পর্যন্ত নাটোর জেলার সিংড়া এবং সিরাজগঞ্জের বেলকুচি থানা এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালানো হয়। এসআই বাবুল আক্তার ও তাঁর সঙ্গীয় ফোর্স এই অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযানে গ্রেফতারকৃত ডাকাত দলের সদস্যরা হলেন: সিরাজগঞ্জের সাদেক আলী ওরফে মোকাদ্দেস (৬২) ও হৃদয় হাসান (২৬)। এনায়েতপুর থানার পাকড়তলা এলাকার মো. ইমদাদুল হক ও গোপরেখী পশ্চিমপাড়া এলাকার মো. সুজন (৩১)। নাটোরের সিংড়া উপজেলার সোনাপুর এলাকার মো. আরিফুল ইসলাম ওরফে সবুজ (৩১)।

এছাড়া কামারখন্দ উপজেলার ময়নাকুল এলাকার জয়নব খাতুন নামের এক ওয়ারেন্টভুক্ত নারী আসামিও এ অভিযানে গ্রেফতার হন। তাঁকে সোমবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রটি মূলত একটি ছোট পিকআপ গাড়ি ব্যবহার করে বিভিন্ন বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হানা দিত। ভেতরে ঢুকে তারা প্রতিষ্ঠানের বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনে ব্যবহৃত মূল্যবান তামার তার এবং বিভিন্ন দামী যন্ত্রাংশ লুট করে পালিয়ে যেত।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত সাদেক আলী কামারখন্দ থানার টিটিসি, নাটোর সুগার মিল, রাজশাহীর মোহনপুরের কেশরহাট কোল্ড স্টোরেজ এবং মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া থানার পপুলার পলিথিন কারখানায় ডাকাতির কথা স্বীকার করেছে। তারা কামারখন্দের চৌবাড়ি কৃষ্ণপুর গ্রামের বন্ধ হয়ে যাওয়া ‘ফেঞ্চি মিল্ক অ্যান্ড এগ্রো ফ্যাক্টরি’তে ডাকাতির বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতরা প্রত্যেকেই দুর্ধর্ষ এবং পেশাদার অপরাধী। এদের মধ্যে সুজনের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১৩টি, হৃদয় হাসানের বিরুদ্ধে ৭টি এবং সাদেক আলী, সবুজ ও ইমদাদুলের বিরুদ্ধে ৫টি করে চুরি, ডাকাতি ও অপহরণের মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর আগেও তারা নাটোর সুগার মিল, গোদাগাড়ি ও ধামরাইয়ের ডাকাতি মামলায় গ্রেফতার হয়েছিল। কিন্তু জামিনে বের হয়ে তারা আবারও একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।

এই চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতার এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে কামারখন্দ থানা পুলিশ জানিয়েছে।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন