ভাড়ায় লোক এনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হামলা, গুলিবিদ্ধসহ আহত ১০

প্রকাশ: রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৩ অপরাহ্ণ
ভাড়ায় লোক এনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হামলা, গুলিবিদ্ধসহ আহত ১০

বিশেষ প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে পূর্ববিরোধের জের ধরে নরসিংদী থেকে ভাড়ায় লোক এনে হামলার অভিযোগ উঠেছে। পরবর্তীতে উভয় পক্ষ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে জড়িয়ে পড়ে। এতে দুজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাতে উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের চরলাপাং গ্রামে এ সহিংসতার ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিরা হলেন—চরলাপাং গ্রামের ফুল মিয়া (৬০) এবং একই গ্রামের সুমন মিয়ার স্ত্রী উম্মে হানি (২২)। তাঁদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চরলাপাং গ্রামে একটি গ্রামীণ সড়ক নির্মাণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অহিদ মিয়ার সঙ্গে গ্রামবাসীর বিরোধ শুরু হয়। সম্প্রতি সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর ট্রাক্টর ভাড়ায় চালানোকে কেন্দ্র করে সেই বিরোধ চরম আকার ধারণ করে।

স্থানীয়দের তথ্যমতে, গ্রামের মুসলেম মিয়া কৃষিজমিতে চাষাবাদের জন্য ভাড়ায় ব্যবহারের উদ্দেশ্যে একটি ট্রাক্টর ক্রয় করেন। এতে ট্রাক্টর ব্যবসার একক আধিপত্য হারানোর আশঙ্কায় ক্ষুব্ধ হন অহিদ মিয়া ও তাঁর ভাই উবায়দুল মিয়া। এ নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

অভিযোগ রয়েছে, এই বিরোধের জের ধরে শনিবার রাতে অহিদ মিয়া পার্শ্ববর্তী নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মির্জারচর এলাকা থেকে সশস্ত্র লোকজন ভাড়ায় এনে আনেন। পরে অহিদ মিয়ার নেতৃত্বে আগন্তুকরা মুসলেম মিয়ার সমর্থকদের ওপর আচমকা হামলা চালালে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার একপর্যায়ে আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে মুসলেমের সমর্থক ফুল মিয়া ও উম্মে হানি শরীর ভেদ করে গুলিবিদ্ধ হন এবং উভয় পক্ষের অন্তত আরও আটজন আহত হন।

নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার রোকসানা খাতুন জানান, চিকিৎসাধীন দুজনের ডান হাতে গুলির আঘাতের চিহ্ন ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনায় অভিযুক্ত অহিদ মিয়া ও মুসলেম মিয়ার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল আলম চৌধুরী জানান, উভয় পক্ষের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও সড়ক নির্মাণ নিয়ে পূর্বে থেকেই বিরোধ ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

এআইএল/সকালবেলা