টেকনাফে ৫ মাঝিসহ ট্রলার নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি
ইমতিয়াজ মাহমুদ ইমন, কক্সবাজার: কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূলবর্তী বঙ্গোপসাগর থেকে মাছ ধরার একটি ট্রলারসহ পাঁচজন জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)।
আজ সোমবার (২৯ জুন) সকালে এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী ঘাট বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম। অপহৃত পাঁচ মাঝিমাল্লা উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
অপহৃতরা হলেন— মাঝি সালাম নুর (৩১), মো. আইয়ুব (৩৭), মো. আজিজুল্লাহ (৩০), সৈয়দ হোসেন (২৫) এবং মো. আইয়ুব (২৪)।
স্থানীয় জেলে ও বোট মালিক সমিতি সূত্রে জানা যায়, গতকাল রবিবার সকালে প্রতিদিনের মতো টেকনাফের কায়ুকখালী ঘাট থেকে সাবরাং ইউনিয়নের আলীর ডেইল গ্রামের বাসিন্দা আলী আহমদের মালিকানাধীন একটি ট্রলার মাছ ধরার উদ্দেশ্যে সাগরে রওনা হয়। পরবর্তীতে ট্রলারটি সেন্টমার্টিনের ছেঁড়া দ্বীপ সংলগ্ন সমুদ্রসীমায় পৌঁছালে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সদস্যরা অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ট্রলারটিকে ধাওয়া করে আটকে ফেলে। এরপর তারা ট্রলারসহ ওই পাঁচ জেলেকে জোরপূর্বক সীমান্ত পার করে নিয়ে যায়। এ সময় আশপাশে থাকা অন্যান্য মাছ ধরার ট্রলারগুলো দ্রুত গতিতে পালিয়ে নিরাপদে ফিরে আসতে সক্ষম হয়।
বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম বলেন, "সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া একটি ট্রলারসহ পাঁচ মাঝিমাল্লাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বিষয়টি জানার পর আমরা বিজিবি ও কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। হঠাৎ করে আবারও জেলে অপহরণের ঘটনায় উপকূলের জেলেপল্লিতে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।"
এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, "সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া একটি ট্রলারসহ পাঁচ মাঝিমাল্লাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার খবর আমরা পেয়েছি। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে যে, অপহৃতরা সবাই রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা। বিষয়টি নিয়ে আমরা মাঠ পর্যায়ে খোঁজখবর নিচ্ছি এবং অপহৃতদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সীমান্ত ও কোস্টগার্ড কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বিক যোগাযোগ রাখছি।"
এআইএল/সকালবেলা
|